মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইল ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চালানো এই হামলায় দূরপাল্লার ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইল ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার নির্ধারিত সময়সীমা আবারও পিছিয়ে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার আগ্রহ দেখা দেওয়ায় এবং শান্তি আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোনোর কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প আরও জানান, আলোচনার সদিচ্ছা হিসেবে ইরান ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি ‘অ্যাকশন লিস্ট’ পাঠানো হয়েছে এবং তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তার জবাবও দিয়েছে।
তবে ইরান স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে—যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইরান ও হিজবুল্লাহর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে, ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে হবে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প একদিকে আলোচনার কথা বললেও কঠোর অবস্থান থেকেও সরে আসেননি। হোয়াইট হাউসের বৈঠকে তিনি ইরানকে ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দেন এবং প্রয়োজনে দেশটির তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন।
যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে ইসরাইলের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ সতর্ক করে বলেছেন, ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সক্ষমতার সীমায় পৌঁছে গেছে এবং সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়া সরকার একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যেই ইসরাইলি বিমান হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টা জবাবে ইরানের ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে দুইজন নিহত হয়েছে এবং সৌদি আরব ও কুয়েতেও হামলার খবর মিলেছে।
সব মিলিয়ে, আলোচনার চেষ্টা চললেও মাঠপর্যায়ে পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ও বিস্ফোরক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সূত্র: হুরিয়েত ডেইলি নিউজ।









