সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্ম পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুঁড়ি জেলার নয়াবস্তিতে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, জন্ম সাল ১৯৪৫ বা ১৯৪৬। তার পারিবারিক নাম খালেদা খানম, ডাকনাম পুতুল। পরিবারের আরও কয়েকটি ডাকনাম ছিল—টিপসি ও শান্তি। খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদার। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। তার বাবার বাড়ি মূলত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় হলেও শৈশব কেটেছে দিনাজপুরের বালুবাড়ী এলাকায়। বর্তমানে সেই বাড়িতে কোনো পরিবার বসবাস করেন না, সেখানে একটি বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে।
খালেদা জিয়া ১৯৬০ সালে ১৫ বছর বয়সে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বিয়ের পরই তিনি খালেদা জিয়া নামে পরিচিত হন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৮২ সালে, যখন তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।
১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি ও খালেদা জিয়া বিজয়ী হন। একই বছরের পঞ্চম সংসদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার নেতৃত্বে সংবিধানে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার থেকে সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। খালেদা জিয়া দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং দেশ-বিদেশে নারী নেত্রী হিসেবে ব্যাপক সম্মানিত ছিলেন।
তিনি দুই সন্তান—তারেক রহমান পিনো ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর জননী। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবন প্রমাণ করে, তিনি শুধু একজন নেত্রী নন, বরং দেশের গণতন্ত্রের শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবেও বিবেচিত।









