যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে ৪০ দিনের হামলা থেমেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যকে বড় যুদ্ধের মুখ থেকে আপাতত ফিরিয়ে এনেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে এখনো দুই পক্ষের অবস্থান অনেক দূরে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণী প্রতিবেদন এ তথ্য উঠে এসেছে।
সিএনএনের কূটনৈতিক সম্পাদক জেমস বেইস জানিয়েছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ১০ দফা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এতে অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়গুলো হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আগ্রাসন না করার প্রতিশ্রুতি।
ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির স্বীকৃতি।
ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সব প্রস্তাব প্রত্যাহার।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব প্রত্যাহার।
অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব কমব্যাট ফোর্স প্রত্যাহার।
যুদ্ধকালে ইরানের ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, যা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আদায় হবে।
বিদেশে জব্দ সব ইরানি সম্পদ ও সম্পত্তি মুক্ত করা।
এসব বিষয় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বাধ্যতামূলক অন্তর্ভুক্ত করা।
তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এএফপিকে বলেছেন, যেকোনো শান্তিচুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয় সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেছেন, “ওটা সমাধান না হলে আমি এই সমঝোতায় যেতাম না।”
ইরান জানিয়েছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
পরবর্তীতে স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তাদের প্রকাশিত ১০ দফা প্রস্তাব আসলে আলোচনায় থাকা শর্তগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তিনি বলেন, “এগুলো খুবই ভালো পয়েন্ট, তবে আলোচনায় আসা দাবিগুলো সর্বোচ্চ মাত্রার নয়।”
তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ মুক্তি, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ, বা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার-এর বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। এছাড়া ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও আলোচনার অন্তর্ভুক্ত করেনি, যা ইরান ও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার মূল অংশ ছিল।









