মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনায় দেশর বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করছে বিভিন্ন মহল। তবে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ও যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী।
সচিব বলেছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা রুখতে মজুতদারদের বিরুদ্ধে বা অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সার্বিক জ্বালানির পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
এসময় মনির হোসেন জানিয়েছেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সরবরাহ চুক্তি ‘ফোর্স মেজর’-এর আওতায় পড়লেও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে এরইমধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সরবরাহ শুরু হবে।
বর্তমানে দেশের জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে যুগ্মসচিব বলেছেন, বিশেষ করে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েল পরিশোধন কার্যক্রমও চলমান আছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই।
কৃত্রিম সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সরকার এরইমধ্যে কঠোর বার্তা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। কেউ অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা জ্বালানি তেল স্থানীয় খোলা বাজারে বিদ্যমান দামে বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি এর সুবিধা পায়।
কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে এই সচিব বলেন, জেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। কোনো কৃষক যাতে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রয়েছে।
ফিলিং স্টেশনে ভিআইপিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠছে এমন প্রশ্নের জবাবে যুগ্মসচিব বলেছেন, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা বা সুযোগ নেই। সবাইকে সমানভাবে জ্বালানি সরবরাহের নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সরকার এরইমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তি পর্যায়েও সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই সম্মিলিতভাবে সাশ্রয়ী আচরণই এর উত্তরণের প্রধান উপায়।









