দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের একটি বড় দাবির দিকে এগোচ্ছে সরকার। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের কর্মচারীদের একটি সমন্বিত সফটওয়্যারের আওতায় এনে বদলি প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে।
রবিবারমন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব জানিয়েছেন, আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকেই এই বদলি সফটওয়্যারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। এটি একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত করা হবে, যেখানে শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করা যাবে।
জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সভায় সফটওয়্যারটিকে আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আপডেট আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সংশোধিত বদলি নীতিমালা দ্রুত প্রকাশের জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকদের জন্য বদলির কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা ছিল না। তারা কেবল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন করে আবেদন করে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ পেতেন। প্রথম থেকে তৃতীয় গণবিজ্ঞপ্তি পর্যন্ত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা এ সুবিধা পেলেও চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তির পর সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ দেখা দিলে শিক্ষকরা আন্দোলনে নামেন। তাদের দাবির মুখে বদলি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং একটি নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতা যেমন শিক্ষকদের একাংশের রিট, সফটওয়্যার প্রস্তুতে বিলম্ব এবং নীতিমালার সংশোধন এসব কারণে এখনো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
নতুন সফটওয়্যার চালু হলে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে বলেও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।









