মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার রাতে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর জবাবে পাল্টা প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ইসরায়েলের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে মধ্য ইসরায়েলের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার সকালে তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। পরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী নিশ্চিত করে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর এই প্রথম তারা সরাসরি ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, ইরান, লেবানন, ইরাক এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে হামলার জবাবে তারা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই অভিযান চলবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
এদিকে ইরান আক্রান্ত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের সালালাহ বন্দরে দুটি ড্রোন হামলায় এক বিদেশি শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনেও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। আবুধাবিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া তিনটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। এর আগে শুক্রবার প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হন।
সব মিলিয়ে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।









