জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে ত্রুটির কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়েছে। বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটের দিকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। এসময় তিনি বলেন, এভাবে বারবার বিভ্রাটের ঘটনা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।
রোববার (৫ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের আগে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামের বক্তব্যের সময় হঠাৎ মাইকে বিভ্রাট দেখা দেয়। এরপর পুনরায় সংসদের অধিবেশন শুরু হলে প্রথমেই স্পিকার মাইক বিভ্রাটের কারণগুলো জানান।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মাইকে যে বিভ্রাট হয়েছে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তার খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষিপ্ত জনতা জাতীয় সংসদের প্রবেশ করে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তছনছ করেছে। এই কারণে ক্রমাগত মাইকের বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। আরেকটি কারণ হল ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২২ সালে এই মাইক সিস্টেম সংসদের অভ্যন্তরে স্থাপিত করা হয়। যারা স্থাপিত করেছেন, এটার কোনো ওয়ারেন্টি ছিল কিনা, মাইকের কার্যকারিতা কতদিন থাকবে এ সম্বন্ধে কোনো কাগজপত্র ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে না। অত্যন্ত হেলাফেলার সঙ্গে এই বিশাল কাজ করা হয়েছে।
স্পিকার বলেন, সংসদ কর্তৃপক্ষ আমেরিকার সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। এই সংসদীয় মাইক ব্যবস্থা রিপেয়ার করার জন্য তাদের কোনো আগ্রহ নাই। তারা এভয়েড করে যাচ্ছে ক্রমাগত। স্থানীয় যে কমিউনিটি এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল তারাও কখনো পলাতক, কখনো দায়সারাভাবে এড়িয়ে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমি সংসদের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি এ ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি করে প্রকৃত তথ্য জানানোর জন্য। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই হাউস, এই জাতীয় সংসদে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ–বিভ্রাট ঘটা—এটা আমাদের জাতির জন্য, রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কজনক। সংসদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, আবারও যদি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হয়, ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লুজ কানেকশন প্রতিস্থাপন করে কাজ শুরু করতে পারবে। সুতরাং বিভ্রাট দেখা দিলে আবার বিরতি দিতে হতে পারে। অত্যন্ত অসন্তোষজনক একটি পরিস্থিতিতে আমরা সংসদের কার্যক্রম চালাচ্ছি।









