জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চানখারপুলে ছয়জন নিহতের ঘটনায় মানবতাবিরোধী মামলায় যুক্তিতর্ক আজ শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই যুক্তিতর্ক পরিচালনা করবেন।
প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন করবেন, এরপর আসামি ও তাদের পক্ষের আইনজীবীরা পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন করবেন। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের দিকে এগোবে, যা চলতি মাসেই হতে পারে।
গত ১০ ডিসেম্বর মামলার আসামি শাহবাগ থানার সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেনের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ৮ ডিসেম্বর তিনি ট্রাইব্যুনালে নিজের পক্ষে জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে দাবি করা হয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় নিজের সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চানখারপুলে কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেননি। এছাড়া একইভাবে মো. সোলাইমানও সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এর আগে, ৩০ নভেম্বর আরশাদের পক্ষে সাফাই সাক্ষী নেওয়ার আবেদন অনুমোদিত হয়। মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলামের জেরা শেষ হয়েছে। মোট ২৩ কার্যদিবসে ২৬ সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
গ্রেপ্তার চার আসামি হলেন মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। পলাতক আসামিরা হলেন সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম এবং রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুলে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শহরে নিহত হন।









