ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আমেজ কাটতে না কাটতেই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। বিশেষ করে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া দল বিএনপি’র নারী নেত্রীরা এখন আসন পেতে জোর লবিং শুরু করেছেন। সংবিধান অনুযায়ী, ৩০০ আসনের সংসদে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে, যা সাধারণ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে বণ্টন করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও গেজেট অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসন পাওয়ায় তাদের নেতৃত্বাধীন জোট ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পেতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ১৩টি আসন। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রতি ৬ জন এমপির বিপরীতে একটি করে সংরক্ষিত নারী আসন বরাদ্দ থাকে। তবে চূড়ান্ত হিসাবটি ঝুলে থাকা ৪টি আসনের ফলাফলের পর সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে।
বিএনপির ভেতরে এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা চলছে। দলের উচ্চপর্যায় থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, এবার নির্বাচিত মন্ত্রী বা এমপিদের পরিবারের সদস্যদের বদলে সেইসব নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে যারা দীর্ঘ সময় ধরে দলের প্রতি অনুগত এবং সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। এছাড়া সাম্প্রতিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা তরুণ নারী নেত্রীদের মূল্যায়ন করার সম্ভাবনা প্রবল।
আগে নারী নেত্রীরা খালেদা জিয়ার কাছে তাদের দাবি পেশ করলেও, বর্তমানে তারা দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক নেত্রীই জানিয়েছেন, বর্তমান ব্যস্ত পরিস্থিতির কারণে তারা এখনো সাক্ষাৎ পাননি। আগামী মে মাসের মাঝামাঝির মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে এই ৫০টি আসনে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
এই সংরক্ষিত আসন বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও কম নয়। রাজনৈতিক সমালোচকদের মতে, এই পদ্ধতিতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ না থাকায় অনেক সময় ত্যাগী নেত্রীরা বঞ্চিত হন এবং প্রভাবশালীদের আত্মীয়রা জায়গা করে নেন। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জানিয়েছেন, তফশিল ঘোষণার পর যোগ্য ও দক্ষ নেত্রীদের মাধ্যমেই এই ৩৫টি আসন পূরণ করা হবে।









