কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। টরোন্টোর দক্ষিণ-পশ্চিম স্কারবরো আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে উপনির্বাচনে জয়লাভ করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দেশটির ফেডারেল এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খলিল রহমান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিষয়টিকে “বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনের আনন্দের খবর” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সকালে কানাডিয়ান গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার দেখে এ খবর জেনে তিনি আনন্দিত হন।
খলিল রহমান স্মৃতিচারণ করে বলেন, কানাডায় বাংলাদেশের হাই কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বহু বাংলাদেশি-কানাডিয়ানকে ফেডারেল রাজনীতিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিলেন। তবে এতদিন কোনো দল থেকেই কেউ সংসদে নির্বাচিত হতে পারেননি। সে সময় অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টে একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি ছিলেন ডলি বেগম।
ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও পার্লামেন্টে এনডিপির এমপিপি ও ডেপুটি নেতা হিসেবে প্রায় আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ফোরামে খলিল রহমানের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
খলিল রহমান জানান, টরোন্টোর শহীদ মিনার উদ্বোধন, অন্টারিও পার্লামেন্টে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন এবং ঢাকা-টরোন্টো রুটের উদ্বোধনী ফ্লাইটসহ বিভিন্ন আয়োজনে তারা একসঙ্গে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ডলি বেগমকে “আমাদের নিজস্ব বোন” বলে সম্বোধন করতেন।
তিনি আরও স্মরণ করেন, অন্টারিও পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে ডলি বেগম এনডিপির উপনেতা হিসেবে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন—যা তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।
পোস্টে খলিল রহমান ২০২৪ সালের মার্চে অটোয়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি (তখন ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট) বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করতে হাই কমিশনে যান। সে সময় ফেডারেল রাজনীতিতে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে আলোচনায় ডলি বেগমকে সম্ভাবনাময় নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে চলতি বছরের শুরুতে ডলি বেগম এনডিপি ত্যাগ করে লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন এবং দলীয় মনোনয়ন পেয়ে উপনির্বাচনে অংশ নেন। খলিল রহমানের মতে, অতীতের সেই আলোচনারই বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে এই বিজয়ের মাধ্যমে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডলি বেগম ভবিষ্যতে মন্ত্রীসভায় স্থান পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তিনি প্রথম বাংলাদেশি-কানাডিয়ান ফেডারেল মন্ত্রী হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।









