দেশের বিদ্যুৎ খাত ক্রমেই বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়ছে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল এবং ব্যাংক ঋণের পরিমাণ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ উত্তর দেন তিনি।
জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে বিপুল অঙ্কের বকেয়া জমে রয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতে মোট বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকারও বেশি। এর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ঋণের বোঝা প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা খাতটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
মন্ত্রী জানান, এই বিপুল বকেয়ার বড় অংশই এসেছে গ্যাস ও জ্বালানি তেলনির্ভর আইপিপি (স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী) কেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জ ও জ্বালানি বিল থেকে। এসব খাতে বকেয়া রয়েছে ১৭ হাজার ৩৫৭ দশমিক ৬৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক জয়েন্ট ভেঞ্চার ও আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কয়লার মূল্য ও ক্যাপাসিটি পেমেন্ট বাবদ বকেয়া দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৪৫২ দশমিক ৯১ কোটি টাকা।
এছাড়া পেট্রোবাংলার কাছেও গ্যাস বিল বাবদ সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বকেয়া রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৪ দশমিক ০৬ কোটি টাকা। সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর ক্যাপাসিটি ও ফুয়েল পেমেন্ট বাবদ বকেয়া ৫ হাজার ৬২৩ দশমিক ০৩ কোটি টাকা। একইসঙ্গে ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের বিপরীতে বকেয়া রয়েছে ৩ হাজার ৮৯১ দশমিক ৫৫ কোটি টাকা এবং হুইলিং চার্জ বাবদ বকেয়া ১৯৮ দশমিক ৯৪ কোটি টাকা।
মন্ত্রী আরও জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপরীতে ব্যাংকিং খাতে নেওয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩১১ দশমিক ২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল ঋণ ও বকেয়ার চাপ বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ টেকসইতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









