যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।
আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত সম্মেলনে তিনি বলেছেন, “ প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় তার শিশুদের জীবন ও বিকাশের মধ্য দিয়ে। আজ আমরা তাদের জন্য যে শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সুযোগ সৃষ্টি করছি, তা-ই আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠনে প্রভাব ফেলবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে জোবাইদা রহমান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে শিশুদের কল্যাণে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের এই প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী উল্লেখ করেন, “ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সদ্য নির্বাচিত বাংলাদেশ সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সুবিধাভোগী পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করবে বলে তিনি মনে করেন। ”
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি শিশুদের জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জোবাইদা রহমান বললেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) শিক্ষাব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটাতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সম্পদের অভাব রয়েছে। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের জন্য ট্যাবলেট ও কম্পিউটার সরবরাহ, ডিজিটাল কারিকুলাম প্রবর্তন এবং মাল্টিমিডিয়া-ভিত্তিক শ্রেণিকক্ষ চালুর মাধ্যমে শিক্ষাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।”
জোবাইদা রহমান আরও বললেন, “প্রযুক্তি, বিশেষ করে এড-টেক, শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির নৈতিক ও নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি।”
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গে জোবাইদা রহমান বললেন, “বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী ঐতিহ্য রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় মানবাধিকার অগ্রগতি এবং মেয়েদের জন্য দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ চালু করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ।”
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপনের কথা উল্লেখ করে জোবাইদা রহমান বললেন, এর মাধ্যমে লাখো নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যা পরিবারকে শক্তিশালী করেছে এবং শিশুদের উন্নত জীবন নিশ্চিত করেছে।









