আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ এলাকার শূন্য আসন এবং শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন। আসন্ন এ নির্বাচনে গণভোট থাকছে না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার (১১ মার্চ) দুপুর পৌনে ২টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ।
ইসি সচিব জানান, ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। বগুড়ার ক্ষেত্রে আগে গণভোট নেওয়া হয়েছিল। তবে শেরপুর-৩ আসনে গণভোটের ভোটসংখ্যা নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ কারণে সেখানে গণভোটের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে যে ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা ছিল, তার আওতায়ই এই নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরিচালিত হবে।
এবার কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ আরও জানান, বডি–ওর্ন ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপের ব্যবহার বাড়ানো হবে। আগে একটি কেন্দ্রে একটি বডি–ওর্ন ক্যামেরা থাকলেও এবার প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক ক্যামেরা ব্যবহার করা হতে পারে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেছেন, নির্বাচনে আট দিনের জন্য আনসার বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া বিজিবি, সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী তদন্ত কমিটি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা মাঠে কাজ শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সচিব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে যেসব মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে আপিল করার সময়সীমা শেষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো আপিল পাওয়া যায়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরই চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কোন আসনে কতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর এই নির্বাচনে প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ওসিবি ও আইসিবি—দুই ধরনের পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রবাসীদের জন্য ওসিবি ব্যালট আগামীকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে। আর দেশের ভেতরে থাকা পোস্টাল ভোট গ্রহণ শুরু হবে ২৩ বা ২৪ মার্চের দিকে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিজস্ব কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকবে জানিয়ে আখতার আহমেদ আরও বলেছেন, তবে সমন্বয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আগের নির্বাচনের মতো এবারও কমান্ড, কন্ট্রোল ও কোঅর্ডিনেশনের ওপর জোর দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। একটি ভালো জাতীয় নির্বাচনের পর এই দুই আসনের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা। তবে কমিশন আত্মতুষ্ট নয়, বরং সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
ইসি সচিব আরও জানান, ভবিষ্যতে পর্যালোচনার সার্থে কেন্দ্রভিত্তিক ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। ফলাফল ব্যবস্থাপনাও আগের মতোই থাকবে। যেহেতু দুটি আসনে কেন্দ্রের সংখ্যা তুলনামূলক কম—একটিতে ১৫০টি এবং অন্যটিতে ২৮টি কেন্দ্র—তাই দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কমিশন।
এছাড়া পোস্টাল ভোট গণনা শেষ হলেই ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করা হবে বলেও জানান ইসি সচিব।
নির্বাচনকে ঘিরে কোনো চাপ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ বলেছেন, এখন পর্যন্ত কমিশনের কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই এবং কেউ এ ধরনের অভিযোগও করেননি। সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এটাই কমিশনের প্রত্যাশা।









