জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে গণপরিবহন খাতে। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির পর রাজধানীসহ সারা দেশে বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ লক্ষ্যে আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত বিআরটিএ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশ নেবে। বৈঠকে যাত্রীবাহী মোটরযানের ভাড়া পুনঃনির্ধারণ নিয়ে আলোচনা হবে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরি করা হবে।
বিআরটিএ সূত্র জানায়, ১২ সদস্যের একটি কমিটি বৈঠকে অংশ নেবে। তাদের বিশ্লেষণ ও আলোচনা শেষে ভাড়া সংক্রান্ত সুপারিশ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে নতুন ভাড়া কার্যকর করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি-এর মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ভাড়া সমন্বয় এখন সময়ের দাবি। মালিকপক্ষ বৈঠকে নতুন ভাড়া কাঠামোর একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।
বর্তমানে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ২ টাকা ৪৫ পয়সা এবং দূরপাল্লার বাসে ২ টাকা ১২ পয়সা। মহানগরে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং অন্যান্য এলাকায় ৮ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।
তবে পরিবহন মালিকদের প্রস্তাব অনুযায়ী, মহানগরে প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ৪ টাকা এবং দূরপাল্লায় ৩ টাকা ৮০ পয়সা করার দাবি উঠতে পারে। এতে যাত্রীদের ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিআরটিএ কর্মকর্তারা জানান, ভাড়া নির্ধারণে জ্বালানি খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, পরিচালন ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটার ১ টাকা বাড়লে বাস ভাড়া গড়ে ১ পয়সা বাড়ানোর বিধান রয়েছে।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়। নতুন দামে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যেই পরিবহন খাতে পড়তে শুরু করেছে।









