মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। ইরানগামী জাহাজগুলোর উদ্দেশে সরাসরি ‘যাত্রা বন্ধ’ করার কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, যেখানে ওমান উপসাগরে টহলরত মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অডিওতে শোনা যায়, জাহাজগুলোর উদ্দেশে বলা হচ্ছে আপনার গন্তব্য যদি ইরান হয়, তাহলে যাত্রা বন্ধ করুন। অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করবেন না। ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা জাহাজগুলোকে থামিয়ে তল্লাশি ও জব্দ করা হবে। ঘুরে দাঁড়ান এবং তল্লাশির জন্য প্রস্তুত থাকুন। নির্দেশ অমান্য করলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে।
মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে ওমান উপসাগর এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত সব ধরনের সামুদ্রিক চলাচলের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজ এই বাধা অতিক্রম করতে পারেনি।
তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ওই দিন অন্তত চারটি জাহাজ দেশটির সঙ্গে যাতায়াত করেছে। এর মধ্যে তিনটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেছে এবং একটি বেরিয়ে গেছে।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি এই অবরোধের আওতায় নয়। বরং অধিকাংশ তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ওমান উপসাগরে।
মার্কিন ঘোষণায় বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত ইরানের সব বন্দর এই অবরোধের আওতায় রয়েছে। ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া যেকোনো দেশের জাহাজই এই তল্লাশির মুখোমুখি হবে।
অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলো হুমকির মুখে পড়লে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। এতে করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন









