বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা চললেও দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী অবস্থান নিয়েছে সরকার। আগামী দুই মাস পেট্রল ও অকটেন সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে বিশেষ ব্রিফিংয়ে যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বর্তমান মজুত দিয়েই বাজার স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশে বর্তমানে রয়েছে ডিজেল ১ লাখ ৪৩ হাজার টন, অকটেন ৯ হাজার ৫৬৯ টন এবং পেট্রল ১৬ হাজার ৮১২ টন।
তিনি বলেছেন, শুধু তাৎক্ষণিক সরবরাহ নয়, অন্তত তিন মাসের ব্যাকআপ মজুত নিশ্চিত করতে কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সংকট সৃষ্টি না হয়।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলে সরকারের ৫৫ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এতে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় বহন করা হচ্ছে।
জনস্বার্থে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে যা বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অন্য অনেক দেশের জন্য উদাহরণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৪২ স্থানে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৪২ লিটার অবৈধ তেল জব্দ করেছে প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে অযথা তেল মজুত না করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আনতে ‘ফুয়েল পাস’ প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প ইতিমধ্যে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে চালু হয়েছে। সফল হলে এটি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
এলপিজি দামের বিষয়েও অভিযোগগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সামগ্রিক মূল্য সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে বিভাগ।









