রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ নারী, ১২ পুরুষ, এবং সাতজন শিশু রয়েছে। গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
উদ্ধারকারী দল, যার মধ্যে ছিল বিআইডব্লিউটিএ-এর ‘হামজা’ এবং ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দল, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসটি নদী থেকে তুলতে সক্ষম হয়।
নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছে। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালটিতে স্বজনরা আহাজারি করলে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, দুই সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ হারুন, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সরকার দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একটির নেতৃত্বে আছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যটির নেতৃত্বে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলাম। দুই কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
নৌ ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবার প্রতি প্রাথমিকভাবে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর স্থায়ী পুনর্বাসনের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান।
জাতীয় নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, এই দুর্ঘটনা নিছক প্রাণহানি নয়, এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি এবং দায়িত্বহীনতার ফল।
ফেরিঘাটে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর না থাকার কারণে বাসটি পন্টুনের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ পায়। তিনি উল্লেখ করেন, ফেরি সার্ভিস পরিচালনার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিসির এবং ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএর। দুর্ঘটনার দায়ভার এই দুই কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারবে না।









