গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার জন্য জবাবদিহিতার সীমানা নির্ধারণ করতে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
মন্ত্রী বলেছেন, গণমাধ্যমের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য জবাবদিহিতার সীমানা কতটুকু ও কীভাবে নির্ধারণ করতে হবে তা সরকারকে অবহিত করুন। আপনাদের নির্ধারিত সেই সীমানার মধ্যে যাতে কোন গোয়েন্দা সংস্থা, রাষ্ট্রীয় অথবা রাষ্ট্রবহির্ভূত কোন হস্তক্ষেপ যাতে গণমাধ্যমকে কোন ধরনের বাধাগ্রস্ত করতে না পারে সেই দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করার জন্য প্রস্তুত আছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এমন আহ্বান জানান।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, গণমাধ্যম আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন আনুষ্ঠানিক স্তম্ভ নয়। কিন্তু বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ এবং আইন বিভাগের পাশাপাশি গণমাধ্যম এমনভাবে বিরাজ করে, যে কারণে রাষ্ট্রবিজ্ঞান গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ বলে। আমি অত্যন্ত সৌভাগ্যবান আমাদের প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে আমার উপরে আস্থা রেখেছেন দায়িত্ব পালন করার জন্য।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের মতো এরকম একটা ক্ষেত্র, যেখানে আমরা চাই পরিপূর্ণ স্বাধীনতা থাকুক। এবং আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যেই আমরা গণমাধ্যমের এই স্বাধীনতার কথা উচ্চারণ করেছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার এই কথা বলেছেন। আবার একই সঙ্গে আপনারা জানেন কোন স্বাধীনতা যদি দায়িত্বের কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ করা না যায়, তাহলে স্বাধীনতার সুফল ভোগ করা যায় না।
এবং অপরদিকে এই কাঠামো জবাবদিহিতার এই সীমানা যদি আমরা একতরফা সরকার থেকে নির্ধারণ করতে যাই, তাহলে অতীতের সরকারের সঙ্গে আমাদের কোন পার্থক্য থাকবে না।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের যৌথভাবে পথ চলার পথনকশা তৈরি করতে হবে। তারপর সেই পথনকশা ধরে আমরা যদি প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারি, তাহলে আপনারা-আমরা আমাদের অভিষ্ট লক্ষ্যে যেতে পারবো।
তথ্যমন্ত্রী জানান, আমি ইতোমধ্যে দেখলাম সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন বন্টন করার তেমন কোন নীতিমালা নাই। সরকারি দলের দয়া দক্ষিণা অথবা তোষামোদি করাটাই হয়ে গেছে একটা মাধ্যম। বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা যে অনুদান গুলো দিয়ে থাকি সেখানেও কোন নিয়ম নীতিমালা নাই। বিভিন্ন পত্রিকা ব্যাঙের ছাতার মতো তৈরি হচ্ছে, আমাকে অনেক পত্রিকার মালিক বলেছেন এই ব্যাপারে নীতিমালা থাকা দরকার। আবার বিভিন্ন ধরনের জন্ম নেয়া গণমাধ্যম যদি আমরা ঠেকাতে যায় তাহলে গণমাধ্যমের কণ্ঠস্বররোধ করার প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এই ব্যবস্থার উপরে রাষ্ট্র তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে পারেনা।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আমরা ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের উপরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চাচ্ছি। যাতে সাংবাদিকরা একটা ন্যায্য বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকতে পারে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নকারী পত্রিকাকে আমরা একভাবে দেখব, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করতে পারে নাই এমন পত্রিকাকে আমরা আরেকভাবে দেখব।
এভাবে প্রত্যেকটি পর্বে পর্বে নিয়ম-নীতিমালা আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।









