ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলার পর ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানার খবর পাওয়া যাচ্ছে। হাইফার পর এবার দেশটির নেগেভ মরুভূমির নিওত হোভভ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ব্যাপক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে ইসরাইলের পরিবেশ সুরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এ ঘটনায় বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ চুইয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং আপাতত আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ঝুঁকি নেই বলেও জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, রামাত নেগেভ আঞ্চলিক কাউন্সিলের আশপাশের শহরগুলোতে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণের শকওয়েভে অন্তত একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ৪০ নম্বর মহাসড়ক বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে।
এদিকে, ইসরাইলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড ওই এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং এয়ার কন্ডিশনার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাত নয়, বরং প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, “আমরা ধারণা করছি, এটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি শার্পনেল বা ধ্বংসাবশেষের আঘাত।”
ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে দেখা গেছে, দক্ষিণ ইসরাইলের রামাত হোভভ শিল্পাঞ্চল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুনটি সম্ভবত গোলাবারুদ বা প্রতিহত করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে লেগেছে। পাশাপাশি আরও কোনো ধ্বংসাবশেষ রয়েছে কি না তা খুঁজে বের করতে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এর আগে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, রোববার ইরান থেকে পাঁচ দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করা হয়েছে। প্রতিবারই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে সেগুলো প্রতিহত করার চেষ্টা করেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও জেরুসালেম পোস্ট।









