প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণ করে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে তার এমন মন্তব্যের বিপরীতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন (সাব-জুডিস) এবং জাতীয় সংসদের আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করা তার সাজে না।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সিইসি জানান, এগুলো নিয়ে মামলা হয়েছে। বিষয়টি এখন সাব-জুডিস ম্যাটার (বিচারাধীন)। আদালত ও পার্লামেন্টের আলোচনা নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।
এর আগে সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, সিইসি সংবিধানের বাইরে গিয়ে সংস্কার পরিষদের শপথের ফরম বিতরণ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সিইসি ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোন আইন বলে এই ফরম সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন? এটি করার কোনো এখতিয়ার তার নেই। তিনি শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।
সিইসি সরাসরি মুখ না খুললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, শপথের ফরম নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা হয়নি। ওই ফরম সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল। সিইসি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের জানিয়েছেন যে ইসি থেকে এমন কোনো ফরম পাঠানো হয়নি।
গত ১৭ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। ওই দিনই 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫' অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল সংসদ সদস্যদের। তবে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিরাসহ দুই-তৃতীয়াংশ এমপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
বিএনপির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।









