- খাদ্যপণ্য উৎপাদনে প্রণোদনায় গুরুত্ব
- এসএমই খাতেও বেড়েছে ঋণ প্রবাহ
- ঋণে উদ্যোক্তা চাকরি হারানোরা
করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কৃষিখাত। চাকরি হারিয়ে যারা গ্রামে ফিরেছে তাদের হাত ধরেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে প্রান্তিক পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। এজন্য পল্লী এলাকায় ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক উৎস থেকে ঋণ প্রবাহ বেড়ে গেছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারিতে উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ছিল। সে কারণে বেসরকারি ও শিল্প ঋণের পরিমাণ ছিল খুবই কম। তবে সরকার খাদ্য পণ্য উৎপাদনের জন্য কৃষিখাতে প্রণোদনা ঋণসহ স্বাভাবিক ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় কৃষিখাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে। এর ওপর আবার যারা দেশে বিদেশে চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফিরেছে তারাও ঋণ সহায়তায় ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কৃষিখাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে অনেক বেশি।
সূত্রমতে, রাষ্ট্রায়ত্ব ৮টি ব্যাংকে কৃষি খাতে চলতি অর্থ-বছরের জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৪৫ শতাংশ বিতরণ করেছে তারা। তবে বেসিক ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংক ঋণ বিতরণের দিক থেকে পিছিয়ে আছে। আবার চলতি অর্থ বছরের জন্য বেসরকারি ৪১ টি ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা। পাঁচ মাসে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করেছে ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে ১৬টি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ বিশ শতাংশের কম। এছাড়া, কয়েকটি ব্যাংক ৫ শতাংশও ঋণ বিতরণ করতে পারেনি।
ব্যাংকখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো। এটা ছিল লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২০ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে কৃষি ও পল্লী খাতে ১০ হাজার ৭৭৩ কোটি টাকা কৃষিঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ। এ সময়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছিল ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। এমনকি গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে কৃষিঋণ বিতরণ কিছুটা কম হলেও চতুর্থ মাস থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে। এই পরিবর্তন নভেম্বরেও অব্যাহত ছিল। বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে সক্ষম হয় ব্যাংকগুলো। ওই অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী খাতে ব্যাংকগুলোর ২৬ হাজার ২৯২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। অর্থবছর শেষে এ খাতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কৃষি খাতে ব্যাংকগুলোর ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করার লক্ষ্য রয়েছে। করোনার প্রভাব বাড়তে থাকায় গত বছরের এপ্রিলে কৃষি খাতের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এ তহবিল থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চার হাজার ২৯৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়। করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর কৃষি খাতের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঋণ বিতরণ বাড়লেও মাত্র ১০ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। গত অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় এটি ৩৮৭ কোটি টাকা কম। এদিকে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতের ঋণ বিতরণও বেড়েছে। চলতি বছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এই খাতে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে সিএমএসএমই খাতে দুই লাখ ৩৩ হাজার ২৭৬টি গ্রহকের অনুকূলে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৪২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। এর আগে গত ২০২০ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বরে এ খাতের ঋণ বিতরণ করা হয় ৩৮ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা।
আনন্দবাজার/শহক









