জাবির গবেষণা প্রতিবেদন--
- পাহাড়ি ঢালের ভূমি ধসের ঝুঁকিতে
- পরিবেশ-প্রতিবেশ-বনাঞ্চল হুমকিতে
- শিগগিরই ঝুঁকি মানচিত্র প্রকাশ
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে টেকনাফ-উখিয়ার পাহাড়ি বনাঞ্চল থেকে জরুরি ভিত্তিতে অন্যত্র স্থানান্তর না করলে ব্যাপক পরিবেশগত দুর্যোগ ও আর্থ-সামাজিক ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হবে। সম্প্রতি এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষণা যৌথভাবে পরিচালনা করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ ও ‘এএনএসও চায়না’। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাবির ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার কক্ষে ‘উখিয়া-টেকনাফ এলাকার রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাস সংশ্লিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ দুর্যোগ ও করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
মূল বক্তব্যে জাবি ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এটিএম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, মিয়ানমারে জাতিগত দাঙ্গায় বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। কয়েক বছর ধরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী গোষ্ঠিকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশকে বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্পসহ আশেপাশের পাহাড়ি অঞ্চলের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বনাঞ্চল হুমকির মুখে। পাহাড়ের ঢালের ভূমি কেটে অস্থায়ী আশ্রয় তৈরি করায় বর্ষাকালে ভূমিধ্বসের মতো মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হচ্ছে। যা এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও প্রাণপ্রকৃতির জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
যৌথ গবেষণায় ভূকম্পনজনিত দুর্যোগে পাহাড়ি ঢালের জনজীবন ঝুঁকিপূর্ণ ছাড়াও পরিবেশগত দুর্যোগ ও আর্থ-সামাজিক ক্ষয়ক্ষতির প্রবল আশঙ্কার কথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয়, শরণার্থী ক্যাম্প এলাকা মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ ভূ-প্রকৌশল নিয়ামক নিরাপদ মাত্রার মান ১ এর কাছাকাছি অথবা ১ এর থেকে কম। মাটির ভূ-প্রকৌশল, স্বচ্ছিদ্রতা ভূমির বৈশিষ্ট্য, ভূ অভ্যন্তরীণ পানির প্রবাহ ও স্থিতিশীলতা মডেলিং এর ওপর ভিত্তি করে টেকসই নিরাপত্তার জন্য একটি ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ভূমির লিকুইফ্যাকশন সূচক ব্যবহার করে বালুখালি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকার পাহাড়ি ঢালের একটি ঝুঁকি মানচিত্র খুব শিগগিরই তৈরি করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। যা পরবর্তীতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ক্যাম্প এলাকায় সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। এতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা মৌসুমী বৃষ্টিপাত ও ভূমিকম্পজনিত দুর্যোগ থেকে রোহিঙ্গাদের জীবন ও সম্পদ রক্ষা করে টেকসই উদ্যোগ প্রণয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যৌথ গবেষণায় সঙ্গে যুক্ত গবেষক প্রফেসর ড. এটিএম শাখাওয়াত হোসেন, প্রফেসর মো. এমদাদুল হক, ড. হোসাইন, মো. সায়েম, ড. মো হাসান ইমাম, অ্যাসিটেন্ট প্রফেসর মাহমুদা খাতুন এবং গবেষণায় যুক্ত ৬ শিক্ষার্থী।
গবেষকরা এলাকার টেকসই উন্নয়ন, পরিবেশগত দুর্যোগ ও ইকোভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে অচিরেই রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দেন। এ গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী ১৫ জানুয়ারি মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করার পরিকল্পনা জানান তারা৷
আনন্দবাজার/শহক









