জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ ৩ দাবিতে আমরণ অনশনে বসার ২দিন পার হলেও সরকার পক্ষ বা বিরোধী দল থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আশ্বাস পায়নি অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে তারা।
আজ শনিবার (১১ এপ্রিল) তাদের অনশনের ২দিন পার হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজু ভাস্কর্যের পাশেই ক্লান্ত শরীর নিয়ে শুয়ে আছেন অনশনকারী তিন শিক্ষার্থী। তাদের আশেপাশে বেশ কয়েকজন পাখা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। এবং তাদের মধ্যে দুইজনের হাতে ক্যানোলা (স্যালাইন দেওয়ার নল) লাগানো। আর একজনের প্রেসার হাই থাকায় স্যালাইন দেয়া যায়নি। তাদের সাথে সংহতি জানাতে রাজনৈতিক নেতারা ও দেশের নানা প্রান্ত থেকে মানুষজন ছুটে আসছেন।
অনশনে অংশ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের শিক্ষার্থী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ সেশনের সাকিবুর রহমান ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মোস্তাফিজ আমরণ অনশনের ২ দিন পার হলেও দাবি পূরণের ব্যাপারে এখনো কোন আশ্বাস মেলেনি।
অনেকটা আক্ষেপ ও চোখের জল ছেড়ে দিয়ে কান্না মিশ্রিত কন্ঠে অনশনরত মো. সাদিক মোনেম বলেছেন, মনে হচ্ছে ডাস্টবিনে পরে আছি, মাথা ব্যথায় ফেটে যাচ্ছে। গত দুদিনে প্রেসারটা অনেক হাই হয়ে গেছে। স্যালাইন দিতে পারে নাই। আশ্বাস তো এমনিতেই দেবে কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন বা হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে আমরা উঠব না।
এদিকে গত কয়েক দিনে অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজু ভাস্কর্যে আসেন ঢাকা ১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা- ০৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-০৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-০১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু, জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ এবং বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য অনশনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।









