বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বুক না কেটে এবং অজ্ঞান না করে প্রথমবারের মতো অ্যাওরটিক ভালভ সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন- অ্যাওরটিক ভালভ ((TAVI)) প্রতিস্থাপনকারী চিকিৎসক বিএসএমএমইউর ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামান।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এস এম মোস্তফা জামানের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের বুক না কেটে, অজ্ঞান না করে সফলভাবে অ্যাওরটিক ভালভ ((TAVI)) প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করেন। তিনি বর্তমানে করোনারী ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন। ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির ধারাবাহিক সফলতা এই চিকিৎসা নতুন এক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব নেবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধির সাথে সাথে চিকিৎসাসেবার মানও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান প্রশাসন চিকিৎসা বিজ্ঞানের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য গবেষণায় যুক্ত করতে বদ্ধপরিকর।
অ্যাওরটিক ভালভ প্রতিস্থাপন সম্পর্কে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এসএম মোস্তফা জামান বলেন, অপারেশন মানেই ছুরি-কাচি ব্যবহার। আজ ছুরি কাচি ছাড়া বা বুক না কেটে ৮০ বছরের এক বৃদ্ধের হার্টের অ্যাওরটিক ভালভে সফলভাবে ভালভ প্রতিস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের দেশে অনেকের এ চিকিৎসা নেওয়ার সক্ষমতা নেই। যারা ধনীলোক, তাদের অনেকেই দেশের বাইরে গিয়ে এ চিকিৎসা নিয়ে আসেন। আমি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক এই চিকিৎসা পদ্ধতি দেশের প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশের অসচ্ছল মানুষেরা যেন এ সেবা নিতে পারেন সে ব্যবস্থা সরকার করে দিলে আমরা এ চিকিৎসা সেবাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারব। জটিল এ পদ্ধতিতে ভালভ প্রতিস্থাপনে সফলতা, এর সমস্যা ও সম্ভাবনা এবং পাশাপাশি ব্যয়বহুল এ চিকিৎসা সাধারণ জনগণের জন্য সহজলভ্য করতে তিনি নতুনদের জন্য প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।









