১৯৬৬ সালে নির্মিত স্কুল ভবনে ২০০৮ সালে প্রথম ত্রুটি দেখা দেয়। পরবর্তীতে শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হতে থাকে। দিন যতোই যাচ্ছে- ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। সামান্ন বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে । এতে সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
গাইবান্ধার আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। ইতিমেধ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ১৬টি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে তারপরও ক্লাস চলছে। যারা পাঠদান করেন ও ক্লাসে থাকেন তারা আতংকে থাকেন। আর ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলেন, ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে আবেদন করা হয়েছে।
জানা যায়, গাইবান্ধা শহরের প্রাণকেন্দ্র ডিবি রোডে ১৯৬৬ সালে এক একর জমির ওপর আসাদুজ্জামান গার্লস হাইস্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৮ সালে ২২ কক্ষের দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়। তারপর থেকে এখানেই স্কুলের কার্যক্রম চলে আসছে। ২০০৩ সালে স্কুলটিতে কলেজ শাখা চালু হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ফ্যাসিলিটিজ ডিপার্টমেন্ট তিন কক্ষের একটি একতলা ভবন নির্মাণ করে। পরে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অর্থায়নে দোতলার কাজ সম্পন্ন হয়। আসাদুজ্জামান স্কুল শাখায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৫০ জন আর কলেজ শাখায় রয়েছে ৩৫০ জন। স্কুল শাখায় শিক্ষক রয়েছেন ২০ জন এবং কলেজ শাখায় শিক্ষক আছেন ১১ জন।
১৯৬৬ সালে নির্মিত স্কুল ভবনে ২০০৮ সালে প্রথম ত্রুটি দেখা দেয়। পরবর্তীতে শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ হতে থাকে। দিন যতোই যাচ্ছে- ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে। সামান্ন বৃষ্টি হলেই ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। এতে সব সময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
স্কুল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১৯৬৮ সালে স্কুলের উত্তর ও পশ্চিম অংশজুড়ে বাইশ কক্ষের দুইতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সাতটি শ্রেণিকক্ষের দুটি ২০১৬ সালে পরিত্যাক্ত ঘোষণা এবং অবশিষ্ট পাঁচটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকের ৯টি কক্ষের তিনটিকে ২০০৮ সালে পরিত্যাক্ত এবং ছয়টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
দশম শ্রেণির ছাত্রী আশফিয়া জানান, আরসিসি পিলার ও গ্রেট বিমগুলোতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারপরও শিক্ষার্থীরা ভয়ে ভয়ে ক্লাস করে থাকে।
মাস্টার পাড়ার বাসিন্দা রনি মিয়া বলেন, তার মেয়ে ওই স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে তার অনেক দু:শ্চিন্তা। কখন কি হয় এ ভয়ে থাকেন সব সময়। ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক তাঁদের ছেলেমেয়েকে বিদ্যালয়ে আসতে দিতে চান না।
শিক্ষক মৃনাল কান্তি সরকার বলেন, কি করবো আমরাতো কিছু করতে পারিনা। অনেক দিন যাবৎ পাঠদান করি জীবনটা হাতে নিয়ে। এতোগুলো মানুষের জীবনের কথাভেবে সরকারি ভাবে উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইদ্রিস আলী সরকার বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ের মূলভবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কারণে ভয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষার মৌলিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে শিক্ষার্থীরা আরও স্কুল বিমুখ হবে।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শাহ্ মাঈনুল ইসলাম শিল্পু বলেন, এ ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে আবেদন করা হয়েছে। তারপরও আমাদের এ ভাবে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। জেলা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এদিকে ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে বিকল্প পাঠদানের পদক্ষেপ নিতে গত বছরের অক্টোবরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র, গণপূর্ত বিভাগ ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। পত্র পেয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করেছেন।









