- বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি, প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারি শিক্ষক একই পরিবারের
শিক্ষার্থীরা স্কুলে না আসলে শিক্ষকরা কি করবে : আসাদুজ্জামান, প্রধান শিক্ষক
শুরুতে নয়ছয় করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করায়নি এমন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না : মোখলেছুর রহমান, সভাপতি, মর্ডান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়
যারা এমপিও দিতে পারেন, অনিয়ম হলে তারা বাতিলও করতে পারেন : শফিকুল ইসলাম, শিক্ষা কর্মকর্তা, নীলফামারী
বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ জন। মাঝে মধ্যে খোলা হয় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ। খোলা হলেও আসে না কোনো শিক্ষার্থী। নেই কোনো খেলার মাঠ। নীলফামারীর ডিমলায় গয়াবাড়ীর এ বিদ্যালয়টির নাম মর্ডান নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়। গত জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। বিগত কয়েক বছর ধরে বন্ধ থাকা ভূতুড়ে এ প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা বেশ আনন্দিত। তবে, বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে চলছে তুমুল আলোচনা।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, কাগজে কলমে ২০০১ সালে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠানকাল দেখানো হয়েছে। এমপিওভুক্ত আবেদনের সময় ২০২০ সালে সেখানে তৈরি করা হয় পুরানো টিনের ঘর। ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা আসাদুজ্জামান বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। নতুন ওই বিদ্যালয়ে তার বোন আতিকা বেগম ও ভগ্নিপতি আব্দুল মতিনকে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। আর বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই মোখলেছুর রহমান।
সরজমিনে গত বুধবার দুপুর ২টা ২০মি. সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে ৪ থেকে ৫জন শিক্ষার্থী বসে লুডু খেলছে। তাদের দুই একজনের কাছে স্কুল ব্যাগ থাকলেও নেই খাতা-কলম। শিক্ষার্থীশুন্য বাকি দুটি শ্রেণিকক্ষ পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ। একটিতে মোটরসাইকেল ও অপরটিতে কাঠখড় রাখা হয়েছে। অফিসকক্ষে বসে আছেন ৪জন সহকারি শিক্ষক। বিদ্যালয়ের জায়গায় ঠিকাদারি কাজের জন্য রাখা সিসি ব্লকের স্তুপ।
অভিযোগ রয়েছে, গত জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে গ্রামের ৫ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থীকে বিনা পয়সায় প্রাইভেট পড়ানোর নামে শ্রেণি কার্যক্রম সচল দেখানো হচ্ছে। যদিও শিক্ষকরা দাবি করেছেন, এসব শিক্ষার্থী তাদের বিদ্যালয়ের। তখন শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে শিক্ষকরা তা দেখাতে পারেননি।
স্কুলের পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি বলেন, এ স্কুলে অন্য প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ধার করে এনে ভর্তি দেখানো হয়েছে। তাদের দিয়েই ভর্তি ও পরীক্ষার্থী হিসেবে দেখানো হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারি শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান ঠিকাদারি কাজে ব্যস্ত থাকেন বলে বিদ্যালয়ে সময় দিতে পারেন না।
এমপিওভুক্ত হওয়ার শর্ত হলো প্রত্যেক শ্রেণিতে কমপক্ষে ৩০জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর পাবলিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ২৫জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া বিদ্যালয়ে একটি খেলার মাঠ থাকতে হবে। নিজস্ব জমি থাকতে হবে। কাগজে কলমে জমি থাকলেও বাস্তবে এ বিদ্যালয়ের দখলে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি নেই।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কুলে না আসলে শিক্ষকরা কি করবে। তবে স্কুলে না আসলেও পরীক্ষায় ঠিকই অংশগ্রহণ করে তারা। তবে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছি।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মোখলেছুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আমার জানা নেই। আজকে ৫ জন উপস্থিত হয়েছে বলে শুনেছি। তিনি বলেন, শুরুতে নয়ছয় করে প্রতিষ্ঠান দাঁড় করায়নি এমন প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে এমপিও যেহেতু হয়েছে আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে। শিক্ষকদের বলেছি স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির ১৪ হাজার টাকা আছে। সেই টাকা দিয়ে টিন কিনে বারান্দা তৈরি করতে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। অনিয়ম হলে যারা এমপিও দিতে পারেন, তারা বাতিলও করতে পারেন।









