কাতারে করোনার প্রাদুর্ভাবে দীর্ঘ হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকা। দেশটিতে কথিত ফ্রি ভিসায় কাজ করা শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তাদের প্রতিনিয়ত কর্মক্ষেত্র থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। ফলে কাতার থেকে অনেক বাংলাদেশিকে বাধ্য হয়েই দেশে ফিরতে হচ্ছে।
দূতাবাসের তৃতীয় সচিব এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে কথিত ফ্রি ভিসার পাশাপাশি অনেক অবেতনভুক্ত কর্মী এবং ক্ষদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে। এছাড়া, কিছু কোম্পানি বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মী ছাঁটাই করছে। এর ফলে দেশে ফিরে যাওয়া বাংলাদেশিদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন করোনার কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব কাতারও পড়বে। এ কারণে অনেক কোম্পানি তাদের খরচ কমানোর জন্য হয় কর্মী ছাঁটাই করবে, না হয় কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেবে। তাছাড়া ফ্রি ভিসার কর্মীরা নামসর্বস্ব কোম্পানিতে কাজ করে। করোনার কারণে তারা কর্মহীন হলে সেসব কোম্পানি বা তাদের সাপ্লাই কোম্পানি কথিত ফ্রি ভিসার কর্মীদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি।
কাতার সরকার এ বিষয়টিকে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখবে এবং ভবিষ্যতে কথিত ফ্রি ভিসার লোকদের এবং সেসব কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যার ফলে আরো কিছু বাংলাদেশি কর্মী কাজ হারাবে।
এদিকে, কাতার প্রবাসীদের একান্ত বাধ্য না হলে দেশে ফিরে না যেতে দূতাবাস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ, দূতাবাস মনে করে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনেকেই হয়তো নিয়মিত কাজে ফিরে আসবে। কিন্তু কাতার থেকে চলে গেলে তাদের জন্য কাতারে আবার ফিরে আসা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে ঢাকাস্থ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দূতাবাসের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বলে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে দোহা দূবাতাস জানিয়েছে।
দূতাবাস জানায়, কাতার কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, কাতারে মোট ৪ লাখ ১৬ বাংলাদেশি আছেন। সংখ্যার দিক দিয়ে ভারতের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান। তৃতীয় অবস্থানে আছে নেপাল। তবে কতজন প্রবাসী দেশটি থেকে ফিরতে পারেন, তার পরিসংখ্যান এখনো চূড়ান্ত নয়।
আনন্দবাজার/শহক









