কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে আড়িয়াল খাঁ নদীর একটি শাখা। ভৈরবের মেঘনা নদীর সঙ্গে গিয়ে মিশেছে নদীটি। কটিয়াদী সদরের সঙ্গে পাশাপাশি নদীর উপর দুটি মাটির বাঁধ থাকায় কয়েক খন্ডিত হয়ে পড়ে নদীটি।
নদীর অপর অংশটি মিশেছে গাজীপুরের শীতলক্ষ্যা নদীর সঙ্গে। সম্প্রতি খননের ফলে নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। নদীর মোহনা থেকে তিনশো গজ দুরত্বে পাশাপাশি মাটি দিয়ে দুটি বাঁধ থাকায় শাখা নদীটিতে একটির সঙ্গে অপরটির পানি মিশছেনা। এতে নদীটি কয়েক খন্ড হয়ে পড়ে। খন্ডিত নদীর ওপর গতবছর তিন নম্বর আরো একটি বাঁধ দেওয়া হয়।
নদীর একপাশে জালালপুর ইউনিয়নের ফেকামারা গ্রাম। অপরপ্রান্তে ভরাদিয়া গ্রামের উপর দিয়ে কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক। গতবছর ফেকামারা গ্রামের অংশে নদীর পারে গৃহহীনদের জন্য ওই গ্রামে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। আশ্যয়ণ প্রকল্পের অধীনে গ্রামটিতে ১৬৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়।
জানা যায়, ফেকামারা গ্রামের বিপরীতে বরাদিয়া গ্রাম। আগে পারাপারে ডিঙি খরচ পাঁচ টাকা। মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যানকে এক প্রকার বাধ্য হয়েই কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) ও কাজের বিনিময়ে টাকা কর্মসূচি (কাবিটা) প্রকল্পের টাকা দিয়ে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় হয় চার লাখ টাকা। বালু ফেলে নদীর মধ্যে একটি অস্থায়ী বাঁধ তৈরি করে দিতে হয়েছে। জনগণের সুবিধার জন্য অস্থায়ী বাঁধটি করতে হয়। পরে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
সম্প্রতি নদীতে পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টির দিক বিবেচনা করে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বাঁধ অপসারণ করে নদ উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেন। ডিসির নির্দেশ পাওয়ার পর বাঁধ অপসারণ শুরু হয়েছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান মুশতাকুর রহমান বলেন, সড়ক করেছি জনগণের যাতায়াত সহজ করার জন্য। তবে যাতায়াত সহজ করতে গিয়ে নদীর ক্ষতি হলে সেটাও ভাবনায় রাখা প্রয়োজন। মূলত ওই বোধ থেকেই এখন আবার বাঁধ অপসারণ করে নিচ্ছি। এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জোতিশ্বর পাল বলেন, তাঁদের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাঁধ অপসারণ করার। তবে জনদুর্ভোগের কথাও মাথায় আছে তাঁদের। সে কারণে সাময়িক সমস্যা সমাধানে বাঁশের সাঁকোর কথা ভাবা হচ্ছে। পরে পাকা সেতু করা হবে।









