ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা। তার মতে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলে দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র ধারণ করতে পারত এবং নির্বাচনের ফলাফলও আরও বেশি গ্রহণযোগ্য হতো।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের বাংলা টক শোতে অংশ নিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন। আলোচনায় তিনি ভোটারদের আচরণ ও দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা দাবি করেন, নির্বাচনে অনেক ভোটার নিজের ইচ্ছার বাইরে গিয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। তার ভাষায়, মূলত একটি নির্দিষ্ট দলকে ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই তারা কৌশলগতভাবে বিএনপির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ ধরনের ভোটের প্রবণতা দেশের প্রকৃত রাজনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয় বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
তিনি আরও বলেন, এসব বিষয় নিয়ে তিনি দলীয় ও দলবহির্ভূত পরিসরে একাধিকবার আপত্তি ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তবে তার সেই প্রচেষ্টার পরও কার্যকর কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে অনেক ভোটার বাধ্য হয়ে ‘স্ট্র্যাটেজিক ভোটিং’-এর পথ বেছে নিয়েছেন।
আলোচনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এ ধরনের আলোচনা বা প্রচারের কোনো ভিত্তি নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ গুজব।
রুমিন ফারহানা বলেন, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি।
তার ভাষায়, ‘বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অনেক দলই যোগাযোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। এনসিপিও আমাকে বারবার বলেছে, তাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য। কিন্তু আমি তাদের এ প্রস্তাবে হেসেছি, বিষয়টি নিয়ে আর এগোইনি।’
এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার সুযোগ বাড়তে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি নিজের অবস্থান আরও পরিষ্কার করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, কেবলমাত্র সংসদে কথা বলার সুযোগ পাওয়ার জন্য তিনি কোনো রাজনৈতিক জোট বা দলে যোগ দেবেন না।
তিনি বলেন, ‘কথা বলার জন্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাধারা ও লক্ষ্য বিসর্জন দিয়ে শুধুমাত্র সংসদে কিছু সময় কথা বলার জন্য অন্য দলে যোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’
তার এই বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটার আচরণ এবং দলবদল নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।









