নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় এক কলেজছাত্রের ব্যতিক্রমী উদ্ভাবন স্থানীয়ভাবে বেশ সাড়া ফেলেছে। সোহেল মিয়া নামে এই তরুণ নিজ হাতে তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত একটি জিপ গাড়ি, যা দেখতে ও এর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে জানতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন।
রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকার বাসিন্দা সোহেল মিয়া। তিনি সরকারি মুড়াপাড়া কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি অবসরে তিনি একটি বালুর গদিতে কাজ করেন এবং সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়েই ধীরে ধীরে তার স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের মতে, ছোটবেলা থেকেই যানবাহনের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ ছিল। নিজের হাতে কিছু তৈরি করার ইচ্ছাই তাকে অনুপ্রাণিত করে। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি চার চাকার একটি গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে অল্প অল্প করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে একসময় শুরু করেন জিপ গাড়ি তৈরির কাজ। অবশেষে টানা পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি একটি ব্যতিক্রমধর্মী গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হন।
তার তৈরি এই ছোট আকারের জিপ গাড়িতে রয়েছে উন্নত ব্রেক ব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। গাড়িটিতে ব্যবহৃত চারটি ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। একবার চার্জ দিলে এটি টানা ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
গাড়িটির দৈর্ঘ্য প্রায় সাত ফুট এবং প্রস্থ সাড়ে তিন ফুট। চালকসহ মোট পাঁচজন যাত্রী এতে বসতে পারেন। পুরো গাড়িটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে আনুমানিক এক লাখ টাকা। যদিও এখনো এতে ছাদ সংযোজন করা হয়নি। পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করতে তার সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস।
সোহেল মিয়া বলেন, ‘পরিবেশ ও জ্বালানি খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চার চাকার জিপ গাড়িটি তৈরি করেছি। এতে একদিকে জ্বালানির যেমন সাশ্রয় হবে, পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হবে না।’
বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরাই গাড়িটি ব্যবহার করছেন। তবে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তা পেলে এই ধরনের গাড়ি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করার ইচ্ছা রয়েছে তার।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই সোহেল খুবই মেধাবী ছিল। লেখাপড়ায়ও খুব ভালো। পড়াশোনার পাশাপাশি সে কাজও করছে।’
আরেকজন বাসিন্দার মতে, ‘নিজের খরচ চালিয়েও সে অল্প অল্প করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে জিপ গাড়িটি তৈরি করেছে। পাঁচজন মানুষ নিয়ে গাড়িটি দিব্যি চলাচল করতে পারে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় কিছু করা সম্ভব। সোহেল মিয়া আমাদেরকে সেটি করে দেখিয়েছেন। উদ্যমীদের পাশে উপজেলা প্রশাসন সবসময় রয়েছে। তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’









