উনিশ শতাব্দীর আগে কারখানার শ্রমিকদের দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করে কাজ করানোর চল ছিল।কিন্তু সেই তুলনায় তাদের বেতন ছিল যৎ সামান্য।যা তাদের জীবন ধারণের জন্যে যথাযথ ছিল না।দীর্ঘদিন ধরে এই অতিরিক্ত শ্রমের বিনিময়ে অল্প পারিশ্রমিকে খাটিয়ে নেওয়া মালিক শ্রেণীর এই ভাবধারা ভেঙে চূড়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল মে দিবস।আমেরিকা থেকে ধীরে ধীরে চিন, রাশিয়া, বাংলাদেশ, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে মে দিবসের তাৎপর্য ছড়িয়ে পড়ে।বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা পায় শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টা কাজ করার দাবি।
১৮৮৬ সালে ১ মে আমেরিকায় প্রথম পালিত হয়েছিল মে দিবস।সেদিন দৈনিক ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটে পথে নেমেছিল শ্রমিকরা।জমায়েত করে অতিরিক্ত শ্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল তারা।শ্রমিকদের জমায়েত ভাঙতে এলোপাথাড়ি বোমা, গুলি ছোড়েন পুলিশ। নিহত হয়েছিলেন বহু শ্রমিক।
সকল শ্রমিকদের আত্মত্যাগ স্মরণে রেখেই ১ মে দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়।এ ঘটনার তিন বছর পর ১৮৮৯ সালে ফরাসি বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তিতে প্যারিসে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস গঠিত হয়।সেখানেই ১৮৯০ সাল থেকে শিকাগো শ্রমিক আন্দোলনের দিনটিকে বার্ষিক দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। যদিও ভারতে এই দিনটি পালিত হচ্ছে ১৯২৩ সাল থেকে।বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে প্রতি বছর ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা ‘মে দিবস’ রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হয়।বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে মে দিবসের অসীম গুরুত্ব রয়েছে।
বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ। এদেশে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক।এই দিবসের সন্মানার্থে আমাদের দেশে সরকারি ছুটি। শ্রমিকেরা মহা উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে সভা, সমাবেশ, মিছিল মিটিং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে পালন করে এই দিবসটি।মে দিবসের অবদান আগলে রেখেছে শ্রমিকেরা।মে দিবস অন্যায় অবিচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে জোর শপথের দিন। এই দিন শ্রমিকের সাম্য ও মিলনের দিন।
মহান মে দিবস শ্রমজীবী মেহনতি মানুষের চরম আত্মত্যাগের ন্যায্য অধিকার আদায়ের এক অবিস্মরণীয় দিন। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে শ্রমজীবী মানুষরা তাদের শ্রম দিয়ে যাবেন।তবে মালিকরাও শ্রমিকদের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়গুলো সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন; এটাই প্রত্যাশা সকলের।









