দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল বুধবার লেনদেন কমে ৫শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এদিন শেয়ার ক্রেতা কমে বিক্রেতার হিড়িক পড়ে। ফলে ৬৭ ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। পাশাপাশি সূচকেও পতন হয়। এদিনে ৭০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দরের পতন অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। কমেছে লেনদেন। সব ধরনের সূচকেও পতন হয়।
রেগুলেটরদের (বিএসইসি) বিভিন্ন উন্নয়ন পরও পুঁজিবাজার পতনে রয়েছে। হাজারো উন্নয়ন পুঁজিবাজারকে মন্দা থেকে বের করে আনতে পারছে না। পতন কারণে বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়ে হতাশায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানান পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। বিক্রেতার চাপে ক্রেতা তলানিতে জানিয়ে তারা বলছেন, বুধবার ৭০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতনে রয়েছে। উত্থানে ২০ ভাগ শেয়ার দর। এদিনের পতন তালিকায় ভাল কোম্পানির সংখ্যাই বেশি। এ ধরনের পতন ভাল লক্ষণ না। এভাবে চলতে থাকলে এক সময়ে বড় ধরনের ক্ষতিতে পড়বে পুঁজিবাজার।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৬৮ দশমিক ২২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং সিএসইর ৬৯ দশমিক ২২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ১৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ২০ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং সিএসইর ১৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়।
ডিএসইতে এদিন দুই খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শতভাগ দর কমারর খাতগুলো হলো- আইটি ও সেবা আবাসন। ব্যাংক, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিমেন্ট, সিরামিক,বস্ত্র, বিমা, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানী শক্তি, বিবিধ, টেলিকম, পাট, পেপার, চামড়া এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। ওষুধ রসায়ন ও ফান্ড খাতের কোম্পানির শেয়ার দর কমা বাড়ায় এক ধরনের ছন্দা ছিল। শেয়ার দর কমার একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে।
ডিএসইতে গতকাল বুধবার লেনদেন হয়েছে ৫১৩ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার। গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৬৬০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৫টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৭৬টির, কমেছে ২৫০টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৯টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১১ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ২৯৫ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৬৭ দশমিক ২৮ পয়েন্টে।
ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৪৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ২৪ কোটি ১২ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ১৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ১২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, জেএসপি ফাইন্যান্স ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সোনালী পেপার ৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
অপরদিকে, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৬৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৫১টির, কমেছে ১৮৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩০টির। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ১২০ দশমিক ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ১৬২ দশমিক ৪০ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৬ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৫৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৭২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৭ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ২৭৪ দশমিক ৭২ পয়েন্টে, ১০ হাজার ৮৯৬ দশমিক ১৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৫৪ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।
এদিন সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংক শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন সিএসইতে ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জেএমআই হসপিটাল ৯২ লাখ টাকা, শাইনপুকুর সিরামিকস ৭৪ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৭০ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৫৮ লাখ টাকা, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ৫৫ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৫০ লাখ টাকা, রবি ৪২ লাখ টাকা, এক্সিম ব্যাংক ৩৪ লাখ টাকা এবং ওরিয়ন ফার্মা ৩৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









