দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার লেনদেন সাড়ে ৬শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এদিন শেয়ার বিক্রেতা অস্বাভাবিকহারে কমে ক্রেতার হিড়িক পড়ে। ফলে শেয়ার দর উত্থান লক্ষ্য করা যায়। এদিন ৯১ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর এবং সব ধরনের সূচক উত্থান হয়। শেয়ার দর উত্থানের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। এদিন ৭৫ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে উত্থান হয়। লেনদেন সহ সব ধরনের সূচক উত্থানে।
পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৮৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৯১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সিএসইর ৭৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ এবং সিএসইর ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের বৃদ্ধির স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইতে ৯ খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শতভাগ দর বৃদ্ধির খাতগুলো হলো- সিমেন্ট, সিরামিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, পাট, বিবিধ, পেপার, সেবা আবাসন এবং টেলিকম। এদিন ব্যাংক, বস্ত্র, বিমা, ওষুধ রসায়ন, নন ব্যাংকিং আর্থিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানী শক্তি, বিবিধ, ফান্ড, চামড়া এবং সেবা আবাসন খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শেয়ার দর বৃদ্ধির একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর বৃদ্ধিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসইতে গতকাল সোমবার লেনদেন হয়েছে ৬৫৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৬৮২ কোটি ২১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৬টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৩৪৩টির, কমেছে ১৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৪টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১১৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৬১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩২ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১৫ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০৯ দশমিক ৭৫ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৭৬ দশমিক ৯৯ পয়েন্টে।
ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন শাইনপুকুর সিরামিকস ৩৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২১ কোটি ৩১ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ১২ কোটি ৮ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ১০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা এবং আরডি ফুড ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওঠেছে এস আলম কোল্ডরোল্ড শেয়ার। এদিন কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাইডাস ফাইন্যান্স ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ন্যাশনাল ফিড ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ, রতনপুর স্টিল ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ, এ্যাপলো ইস্পাত ৯ দশমিক ২১ শতাংশ, এমবি ফার্মা ৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ফাইন ফুডস ৮ দশমিক ১২ শতাংশ, শাইনপুকুর সিরামিকস ৮ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ও জেএমআই হসপিটাল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
ডিএসইতে দর কমার শীর্ষে ওঠেছে বঙ্গজের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এদিন ডিএসইতে শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরডি ফুড ৪ দশমিক ২১ শতাংশ, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ২ দশমিক ৫১ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১ দশমিক ৯২ দশমিক শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্স ১ দশমিক ৯২ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক ১ দশমিক ৫১ শতাংশ, ফরচুন সুজ ১ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ডিবিএইচ ফার্স্ট ফান্ড ১ দশমিক ৪২ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি টাকা। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ১৭ কোটি ৩ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ২০৭টির, কমেছে ৫১টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৬টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩২২ দশমিক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪০০ পয়েন্টে।
এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৪৮ দশমিক ২৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৯২ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ২২ দশমিক শূন্য ৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৭২ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৪৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৩৯ দশমিক ৬৪ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৭১ দশমিক ২১ পয়েন্টে।
সিএসইতে শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন সিএসইতে শাইনপুকুর ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা, একটিভ ফাইন ১ কোটি ৪ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ৬৯ লাখ টাকা, ফু-ওয়াং সিরামিক ৬৭ লাখ টাকা, ড্রাগন সোয়েটার ৫৮ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৫৬ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৪৭ লাখ টাকা এবং কেয়া কসমেটিকস ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।
আনন্দবাজার/শহক









