- অস্বাভাবিক বলছেন বিনিয়োগকারীরা
- বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ
- নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের বিশেষ দৃষ্টির দাবি
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সূচক গত রবিবার পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সবগুলো খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া দুই স্টকের ৭৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। তবে আগের কার্যদিবস থেকে এদিন দুই স্টকের লেনদেন পরিমাণ বেড়েছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত মঙ্গলবার সূচক সামান্য বেড়েছে। এরপর পরের তিন কার্যদিবস ধরে সূচক পতন চলছে। টানা দুই কার্যদিবস পর গত রবিবারও শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রয়ের চাপ বেশি ছিল। এদিন দুই স্টকের ৭৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৭৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং সিএসইর ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়েছে।
গতকাল রবিবার সিরামিক, পাট এবং সেবা আবাসন খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪২টির মধ্যে ৩৯টি, বস্ত্র খাতের ৫৮টির মধ্যে ৪৯টি, ওযুধ রসায়ন খাতের ৩২টির মধ্যে ২৬টি, ব্যাংক খাতের ৩২টির মধ্যে ২৪টি, নন ব্যাংকিং খাতের ২৩টির মধ্যে ১৯টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২০টির মধ্যে ১৯টি, জ্বালানি শক্তি খাতের ২৩টির মধ্যে ১৯টি, বিবিধ ১৪টির মধ্যে ১০টি, সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি, বীমা খাতের ৫২টির মধ্যে ৩১টি, আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ১০টি, মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ৩৭টির মধ্যে ২৪টি, টেলিযোগাযোগ খাতের ৩টির মধ্যে ২টি, পেপার ৬টির মধ্যে ৫টি, চামড়া ৬টির মধ্যে ৫টি এবং সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন ছিল।
একই মন্দা অবস্থা অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও। এদিন সিএসইর ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। এদিন দুই স্টকের সব খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমাকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই এ ধরনের পতন রোধে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাদের বিশেষ দৃষ্টি দেবার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে গত রবিবার লেনদেন হয়েছে ৮৮৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৮০১ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ৩০০টির বা ৭৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ৩১টির দর। টাকার অংকে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- সোনালী পেপার, বেক্সিমকো, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ওয়ান ব্যাংক, ফরচুন সুজ, এশিয়া প্যাসিফিক।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭২ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৯ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ১৪ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৪৮৮ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪০৮ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে।
অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে রবিবার লেনদেন হয়েছে ৫৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৭টির কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ৪৮টির, কমেছে ২৩২টির বা ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ১৭টির কোম্পানির। টাকার অংকে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বিবিএস কেবলস, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বেক্সিমকো, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, রবি, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, ন্যাশনাল হাউজিং, বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ২৬১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৬৮ দশমিক ২৪ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ১৯ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ১৪০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ১৫৮ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ১৫ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৪৪ দশমিক ২৮ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৬৬৫ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৫৭৬ দশমিক ১৩ পয়েন্টে ও ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।
আনন্দবাজার/শহক









