পুঁজিবাজারে লেনদেন
ডিএসইতে ৩৯১ কোম্পানির লেনদেন ৩৭৪৫ কোটি, টপটেন ১১৫০ কোটি
- লেনদেনের সেরা বেক্সিমকো, শিপিং করপোরেশন
- গেইনারের সেরা সান লাইফ, লুজারে এনসিসি ফান্ড
গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
বিদায়ী সপ্তাহ (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) খরায় কেটেছে পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এই মন্দায়ও ভালো কোম্পানির শেয়ার কদর বেশি ছিল। ফলে সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৯০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করে। পাশাপাশি ‘এ’ ক্যাটাগরির ৮০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লুজারে এবং ৫০ ভাগ টপটেন গেইনারে অবস্থান করে। ডিএসইর সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
গেল সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি এক হাজার ১৫০ কোটি ৭৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা বা ৩০ দশমিক ৭২ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা করে। সেখানে ৩৯১টি কোম্পানি লেনদেন হয় ৩ হাজার ৭৪৫ কোটি ৮৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৫ টাকার শেয়ার।
এদিকে, ‘গত সপ্তাহের শেষে ডিএসইর পিই রেশিও অবস্থান করে ১৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের শেষে ছিল ১৬ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পিই রেশিও কমেছে দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।’
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই ধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। সেই হিসেবে গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর পিই দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে। মানে পিই রেশিও হিসাবে বিনিয়োগ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
গেল সপ্তাহে অর্থের পরিমাণে লেনদেন সেরা অবস্থানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানির (বেক্সিমকো) শেয়ার। সপ্তাহটিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়ে দাপটের সাথে লেনদেনের শীর্ষ স্থান দখল করে। অপরদিকে দরপতন হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শেয়ার লেনদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে ওঠে আসে। দর বেড়ে তৃতীয় অবস্থানে ওঠে আসে সোনালী পেপারের শেয়ার। ওই তিন কোম্পানি মোট ৬৭০ কোটি ৯৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা শেয়ার কেনাবেচা হয়। আর ৪ কোটি ১৫ লাখ ২৭ হাজার ২০৬টি শেয়ার কেনাবেচা করে।
বিদায়ী সপ্তাহটিতে বেক্সিমকো একাই ৩৭৭ কোটি ৪০ লাখ ৬৭ হাজার টাকার বা ১০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫২ দশমিক ৪০ টাকা। আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৪৯ দশমিক ৯০ টাকা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ২ দশমিক ৫০ টাকা বা ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এসময় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৪২৮টি শেয়ার লেনদেন হয়।
দ্বিতীয়তে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন একাই ১৮১ কোটি ২১ লাখ ৪৩ হাজার টাকার বা ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১১৮ দশমিক ২০ টাকা। আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ১২০ দশমিক ১০ টাকা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ১ দশমিক ৯০ টাকা বা ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তৃতীয়ত্ব থাকা সোনালী পেপার একাই ১১২ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার টাকার বা ৩ শতাংশ শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ৭৫৬ দশমিক ৮০ টাকা। আগের সপ্তাহে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) শেয়ার প্রতি দর ছিল ৭১৮ দশমিক ৫০ টাকা। কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৩০ টাকা বা ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
লেনদেন শীর্ষে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফরচুন সুজ ৯৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ৯১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ৬৯ কোটি ২২ লাখ টাকা, সাইফ পাওয়ারটেক ৫৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৫৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংক (এন ক্যাটাগরি) ৫৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং ড্রাগন সোয়েটার ৫৪ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। কোম্পানিগুলোর লেনদেনে সেরা হলেও শেয়ার দর কমেছে।
ডিএসইর সূত্র মতে, গেল সপ্তাহে টপটেন গেইনার তালিকায় ৫০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করে। টপটেন লুজারে ৮০ শতাংশ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ারের দাপট ছিল। অপরদিক, গেইনারে ৩০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ২০ শতাংশ ‘এন’ ক্যাটাগরি শেয়ার অবস্থান করে। লুজারে ২০ শতাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ারের অবস্থান করে। এই ধরনের লেনদেন চিত্রকে সবাই স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হচ্ছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টারা। তারা বলছে, ‘এ’ ক্যাটাগরির বা ভালো কোম্পানির শেয়ার লেনদেন বেশি হওয়া ভালো লক্ষন। এটা পুঁজিবাজার ইতিবাচক গতি আরো বৃদ্ধি করবে।
গেল সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনে অংশ নেয়া ৩৯১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৫টির বা ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। সপ্তাহটিতে ‘বি’ ক্যাটাগরির সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ছিল। গেল সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ। এ বৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন গেইনারে শীর্ষে উঠে আসে।
অপরদিকে লেনদেনে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩১৯টির বা ৮১ দশমিক ৫৮ শতাংশ শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। সপ্তাহটিতে ‘এ’ ক্যাটাগরির এনসিসিবিএল ফান্ড ১ম শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবচেয়ে কম ছিল। গেল সপ্তাহে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ১৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এই কমার মাধ্যমে কোম্পানিটি ডিএসইর সাপ্তাহিক টপটেন লুজারের শীর্ষে উঠে আসে।
সপ্তাহটিতে টপটেন লুজারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ক্রাউন সিমেন্ট ১৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ, আরএকে সিরামিকস ১০ দশমিক ৯৪ শতাংশ, আমান ফিড ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ, হামিদ ফেব্রিক্স (‘বি’ ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ, ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার ব্যাংক (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, এসোসিয়েটেড অক্সিজেন ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং সায়হাম টেক্সটাইল ৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
অপরদিক টপটেন গেইনারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সুহৃদ ১১ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, তাক্কাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স ১০ দশমিক ১৬ শতাংশ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ৭ দশমিক ৫৭ শতাংশ, বিডি থাই ফুড (‘এন’ ক্যাটাগরি) ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিং (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৬ দশমিক ২৩ শতাংশ, ইভেন্স টেক্সটাইল (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ, সোনালী পেপার ৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং একমি পেস্টিসাইড (‘এন’ ক্যাটাগরি) ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে। উল্লেখ্য ‘পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো। নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া এন ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।”









