- অর্থমন্ত্রণালয়ের সতর্কবার্তায় বেড়েছে সূচক
- সূচকের সঙ্গে বেড়েছে শেয়ারের দরও
- শেয়ার বিক্রির চেয়ে কেনার চাপ বেশি
- দর বৃদ্ধিকে স্বাভাবিক দেখছেন বিনিয়োগকারীরা
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সূচক গতকাল মঙ্গলবার উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া দুই স্টকের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। এদিন উভয় স্টকের লেনদেন কমেছে। এর মধ্যে ডিএসইর লেনদেন গতকাল আট মাস বা ১৬১ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন হিসেবে গণ্য হয়েছে। দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের অস্থিরতা দূরীকরণে সম্পতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) কারসাজিকারীদের নজরদারিতে আনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেয় অর্থমন্ত্রণালয়। খবরটি জড়িয়ে গেলে সূচক সামান্য বেড়েছে। সূচকের সঙ্গে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরও বেড়েছে। তবে উভয় স্টকে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে।
মঙ্গলবার সব ধরনের সূচক বেড়েছে জানিয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই স্টকের সব ধরনের সূচকের উত্থান ঘটে। শেয়ার বিক্রয়ের চেয়ে কেনার চাপ বেশি ছিল। ফলে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার উত্থান হয়েছে। তবে এদিন ডিএসইর লেনদেন গত আট মাস বা ১৬১ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন রূপে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ রসায়ন, বিবিধ, খাদ্য আনুষঙ্গিক, জ্বালানি শক্তি, আইটি, পাট, সিমেন্ট, সিরামিক এবং সেবা আবাসন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ার দর উত্থান সবচেয়ে বেশি ছিল। এদের মধ্যে ব্যাংক খাতের ৩২টির মধ্যে ১৬টি, নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাতের ২৩টির মধ্যে ১৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ৪২টির মধ্যে ২৩টি, ওযুধ রসায়ন খাতের ৩২টির মধ্যে ১৯টি, বিবিধ খাতের ১৪টির মধ্যে ১১টি, খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ২০টির মধ্যে ১৫টি, জ্বালানি শক্তি খাতের ২৩টির মধ্যে ১৩টি, আইটি খাতের ১১টির মধ্যে ৬টি, চামড় খাতের ৬টির মধ্যে ৪টি, টেলিকমিউনিকেশন খাতের ৩টির মধ্যে ২টি, পাট খাতের ৩টির মধ্যে ২টি, সিমেন্ট খাতের ৭টির মধ্যে ৪টি এবং সিরামিক খাতের ৫টির মধ্যে ৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান ছিল। একই মন্দা অবস্থা অপর পুঁজিবাজার সিএসইতেও। এদিন দুই স্টকের বেশিরভাগ খাতের কোম্পানির শেয়ার দর বাড়াকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন তারা। তারা আরো বলছেন, ডিএসইতে বীমা এবং ভ্রমণ খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন বেশি ছিল। এদের মধ্যে বীমা খাতের ৫২টির মধ্যে ৪০টি এবং ভ্রমণ খাতের ৪টির মধ্যে ২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন ছিল।
দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, ডিএসইতে মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছে ৬৫২ কোটি ১ লাখ টাকা। যা আট মাস তিন দিন বা ১৬১ কার্যদিবসের মধ্যে সবচেয়ে কম। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল আজকের চেয়ে কম লেনদেন হয়েছিল। ওই দিন লেনদেন হয়েছিল ৬০২ কোটি টাকার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৮টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের মধ্যে বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ১৪৭টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৫টির দর। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২০ দশমিক ৭০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৭৫৭ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট ও ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৫১ পয়েন্টে ও ১ হাজার ৪৩৬ দশমিক ৫৩ পয়েন্টে।
টাকার অংকে এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো, ওয়ান ব্যাংক, ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস, আইএফআইসি ব্যাংক, জিএসপি ফাইন্যান্স, সাইফ পাওয়াটেক, বেক্সিমকো ফার্মা, সোনালি পেপার, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ফার্মা এইড। অপর পুঁজিবাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল ৯১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩০২টির কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১০৬টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৯টির কোম্পানির।
এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬৮০ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৯ দশমিক ৪২ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৩৭ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৪৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট ও সিএসআই সূচক ২ দশমিক ১০ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৭৮ দশমিক ৮৪ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৮৮১ দশমিক ১৩ পয়েন্টে, ১১ হাজার ৮২৬ দশমিক ৬২ পয়েন্টে ও ১ হাজার ২১৮ দশমিক ৯০ পয়েন্টে। টাকার অংকে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ কোম্পানি হলো- ডাচ্ বাংলা ব্যাংক, রবি, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, আইএফআইসি ব্যাংক, ওয়ার ব্যাংক, ম্যাকসন স্পিনিং, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স, ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, বেক্সিমকো ও ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো।
আনন্দবাজার/এম.আর









