সকাল ৯টা বাজতেই এক এক করে, আবার কখনো দলবেঁধে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরা বাইসাইকেল চালিয়ে বিদ্যালয়ে আসতে শুরু করে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হতে সামাজিক সব বাঁধা অতিক্রম করে তারা এখন নিয়মিত স্কুলে আসে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের বেশ কয়টি গ্রামের মেয়েরা নির্বিঘ্নে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনকে পরোয়া না করে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতাধিক ছাত্রী বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে, টিফিন পিরিয়ডে বা ছুটির সময় এমন মনোরম দৃশ্য প্রতিনিয়ত চোখে পড়ে। শুধু শিক্ষার আলো পেতে প্রতিদিন ২ থেকে ৫ কিলোমিটার দূর থেকে সাইকেলে যাতায়াত করে মেয়েরা। বিশেষ করে শান্তিপুর, নাছিরাবাদ, নোয়াগ্রাম, শ্রীঘর, রসুল্লাবাদ, বানিয়াচং, কুড়িনালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে আসে।
১৯০০ সালে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়ে আজও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে। বর্তমান গভর্নিংবডির সভাপতি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিলুর রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে স্কুল থেকে কলেজে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা দুই হাজারের অধিক। যার মধ্যে বেশিরভাগই মেয়ে শিক্ষার্থী। শিক্ষক রয়েছেন ৩৪ জন।
এক সময় স্কুলে ছাত্রীদের উপস্থিতি বেশ কম ছিল। দূরত্ব আর সামাজিক অবস্থার কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মেয়ে নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থাকত। এ পরিস্থিতিকে জয় করতে গভর্নিংবডির সভাপতির উদ্যোগে মেয়েদেরকে বাইসাইকেল বিনামূল্যে প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, আমার বাড়ি স্কুল থেকে দুই কিলোমিটার দূরে। প্রতিদিন বাইসাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাতায়াত করি। প্রথম প্রথম সমস্যা হতো, কিন্তু এখন কোনো সমস্যা হয় না।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার জানায়, আগে হেঁটে স্কুলে আসতে অনেক সময় লাগত। তাই নিয়মিত স্কুলে আসা হতো না। এখন বাইসাইকেল নিয়ে আসার কারণে অনেক সময় বেঁচে যায়।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ মোস্তাক আহাম্মদ বলেন, গভর্নিংবডির সভাপতি মহোদয় শিক্ষায় মেয়েদের উদ্বুদ্ধ করতে ছাত্রীদেরকে বিনামূল্যে সাইকেল প্রদান করেছেন। এখন মেয়েরা বাইসাইকেল চালিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসে। সাইকেলগুলো সংরক্ষিত রাখার জন্য স্ট্যান্ড তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাইকেলে আসা ওদের জন্য সহজ। আমরাও সাইকেলে আসতে ওদের উৎসাহিত করি। কারণ একসঙ্গে দলবেঁধে এলে নিরাপত্তা নিয়ে ভয় থাকে না। ছাত্রীদের আসা-যাওয়ার পথে কেউ আজেবাজে কথা কিংবা কটূক্তি করলে শক্ত হাতে সামাজিকভাবে তা নিরসন করা হয়। মেয়েরাও এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









