ইবির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর--
কক্ষের উপরে লেখা গোপনীয় শাখা, কিন্তু বাস্তবে তা খোলামেলা। ইচ্ছেমতো কক্ষে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা। তাই ওই কক্ষে কর্মরতদের সাথে হরহামেশা বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থায় চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের গোপনীয় শাখা। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদপত্র, নম্বরপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্টের কাজ এ শাখায় হয়ে থাকে। এছাড়াও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলনের জন্য করা দরখাস্ত কয়েকদিন পরে গেলেই আর খুঁজে পাওয়া যায় না। দুইদিনের কাজ করতে সময় লাগে সাতদিন। এতে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ফের দরখাস্ত করতে হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারি খারাপ আচরণ করছে।’
জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের ৩২৮নং কক্ষটি গোপনীয় শাখা। এ শাখায় শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদপত্র, নম্বরপত্র ও ট্রান্সক্রিপ্টের কাজ করা হয়। রেজাল্ট সংক্রান্ত শিক্ষার্থীদের গোপনীয় নথিও এই কক্ষে রাখা হয়। গোপনীয় হওয়ায় শিক্ষার্থীদের এই কক্ষে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু সময়মতো কাজ না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এতে ওই কক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হরহামেশা বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। এছাড়াও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় থাকেন তারা। অভিযোগ রয়েছে,‘ অনেক সময় বাড়তি টাকার বিনিময়ে নিয়ম ভেঙ্গে কাজ করে থাকেন কর্মচারীরা। শিক্ষার্থীদের নিয়ম মেনে করা দরখাস্তের কাজ হয় ধীরগতিতে। ফলে জটিলতা আরও বাড়ে।’
এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আখতার হোসেন আজাদ বলেন, ‘অভিযোগ করেও এ দপ্তরের সমস্যার সমাধান হয়না। অনিয়মেই যেন এ দপ্তরের নিয়ম। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলে কাগজপত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। এজন্য হাতে হাতে কাজ করতে শিক্ষার্থীরা গোপনীয় শাখায় প্রবেশ করে। এটা পুরোপুরি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা।’
এ বিষয়ে সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবু তালিশ বলেন, ‘ কক্ষটিতে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা হয়। এছাড়াও ট্যাবুলেশন শিট রাখা হয়। কক্ষ ও জনবল সংকট হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কক্ষে প্রবেশ করে। ফলে আমাদের কাজে বিড়ম্বনা হয়। জায়গা সংকটের কারণে কক্ষের বাইরে অনেক কাগজপত্র রাখতে হয়।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক একে আজাদ লাভলু বলেন, ‘ জনবল ও জায়গা সংকটে ভুগছি আমরা। দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কথা প্রশাসনকে জানালেও সমাধান হয়না। তবুও শিক্ষার্থীদের কাজগুলো সময়মতো করার জন্য আমরা চেষ্টা করি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এমন ভোগান্তি ঘটে আমি তো জানিনা। তবে শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তিনি বলেন, ‘ জনবল নিয়োগ প্রত্রিুয়াধীন বিষয়, আমরা সেই বিষয়ে অবগত আছি। ক্যাম্পাসে চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে কক্ষ সংকট কেটে যাবে।’
আনন্দবাজার/এম.আর









