- ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় বাবা
দারিদ্রতা দমিয়ে রাখতে পারেনি অদম্য মেধাবী আমিনা খাতুনকে। তার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। অর্থের অভাবে করতে পারেনি মেডিকেল ভর্তি কোচিং। ঘরে বসে পড়াশোনা করে সে এবার নীলফামারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। প্রবল ইচ্ছা শক্তি, অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের ফলে দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও দমে যায়নি আমিনা খাতুন।
এদিকে মেডিকেলে সুযোগ পেলেও ভর্তি নিয়ে চিন্তায় পড়েছে তার পরিবার। মেয়ে ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ জোগাতে চিন্তিত সবজি বিক্রেতা ও ক্যান্সারাক্রান্ত অসুস্থ বাবা।
সে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ফকির পাড়া গ্রামের সবজি বিক্রেতা আব্দুল হামিদের মেয়ে আমিনা খাতুন।
২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৩৭৩১ মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়ে নীলফামারী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন আমিনা খাতুন।
একটি সবজি দোকানের উপর নির্ভর করে পরিবারে চার ভাইবোনের পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন আমিনা খাতুন। জায়গা-জমি বলতে বাড়ি ভিটা ১২ শতক জমির একমাত্র সম্বল তাদের। পরিবারে বাবা মা সহ ৭ জনের সংসার। তিন বোন দুই ভাই। মা লাকি বেগম গৃহিনী।
শুধুমাত্র সবার বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তার বাবা আব্দুল হামিদ দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। একটি দোকানের উপর সংসার ও চার ভাইবোনের পড়াশোনা খরচ যোগাতে পরিবারটি হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় মমিনুল ইসলাম লাজু জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে এমএ ছাত্র। দ্বিতীয় ভাই সাজু হোসেন সে ঢাকা শান্তিনগর এলাকায় হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে প্রথম বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। সবার ছোট বোন খাদিজা খাতুন সে এবার বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
হাতীবান্ধা সরকারি আলিমুদ্দিন ডিগ্রী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০২১ সালে এইচএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এর আগে সে ২০১৯ সালে বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। জেএসসি ও পিএসসিতে জিপিএ ৫ পান।
আমিনা খাতুন বলেন, অর্থের অভাবে মেডিকেল ভর্তি কোচিং করতে পারিনি।বাড়িতে বসে এক বড় ভাইয়ের কাছে পড়ে আজ আমি নীলফামারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চান্স পেয়েছি। গ্রাম থেকে মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখাটা বিশাল ব্যাপার। আল্লাহ আমার স্বপ্ন পূরণ করেছে। এদিকে আমার ভর্তি এবং পড়াশুনার খরচ নিয়ে বাবা মা টেনশনে আছেন। আমি একজন ভাল ডাক্তার হতে চাই। আমি গরিব ঘরের মেয়ে তাই ভালো ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের বেশি করে সেবা করতে চাই। কারন আমি নিজেও গরিব। গরিব মানুষের কষ্ট আমি বুঝি। গ্রামের প্রতিবেশীরা বলেছে মেয়েদের পড়াশোনা করে কি হবে সবাইকে চুলা ঠেলতে হবে। সেই থেকে আমার পড়াশোনার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আমি মেয়ে মানুষ হয়ে কেন পড়াশোনা করতে পারব না। বাবা-মা ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় কষ্ট করে আমি মেডিকেলে চান্স পেয়েছি।
তার মা লাকি বেগম বলেন, আমার মেয়ে মেডিকেলে ভর্তির চান্স পেয়েছে। এখন আমার স্বামী স্ত্রী সারারাত মেয়ের ভর্তি এবং পড়াশোনা নিয়ে টেনশন করছি। আপনারা আমার মেয়ের জন্য দোয়া করবেন।
আমিনা খাতুন এর বাবা আব্দুল হামিদ বলেন, আমি ছয় বছর ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত এখনো সুস্থ হতে পারিনি অনেক কষ্টে সবজির দোকানটি করছি। এই দোকানটির উপর অতিকষ্টে আমাদের পরিবারের খরচ, ওষুধপত্র কেনা ও চার ছেলে মেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে আসছি। আগামী মাসে মেয়েকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি অনেক টাকার প্রয়োজন তা নিয়ে টেনশনে আছি। কোন সংস্থা বা এনজিও যদি সহযোগিতা করত তাহলে একটু টেনশন মুক্ত হতাম।
বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল বাড়ি জানান, আমিনা ছোট থেকেই মেধাবী। সব পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করেছেন সে। তার বাবা সবজি বিক্রেতা। বড়খাতা বাজারে সবজির দোকান। একটি দোকান দিয়েই অতি কষ্টে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা করাচ্ছেন। তার মেয়ে এবার মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। আমি তার সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করি।
ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলার রহমান খোকন জানান, এবার দুই শিক্ষার্থী ফকিরপাড়া ইউনিয়ন থেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তার মধ্যে আমিনা খাতুনের পরিবার অত্যন্ত গরীব। তার বাবা ক্যান্সার আক্রান্ত। তার সাফল্য কামনা করি।









