উনিশ শতকের গোড়ার দিকে ছাত্ররাজনীতি বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বিশ শতকের প্রথম দিকে বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন, স্বদেশি আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন, ১৯৬৬ সালের যুগান্তকারী ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের ১১-দফা, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধেসহ সব আন্দোলনে ছাত্ররাজনীতি অতি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। যার ধারাবাহিকতায় এখনও ছাত্ররাজনীতি প্রাসঙ্গিক হয়ে আছে।
নিকট অতীতে ছাত্রদের সম্মিলিত আন্দোলনের বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলধারার রাজনীতির বদলের সঙ্গে সঙ্গে অনেকাংশে গতিপথ বদলে ফেলে সোনালি ঐতিহ্যের ছাত্ররাজনীতি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একমুখী রাজনীতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বহুলাংশে কমে গেছে। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ওপর।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বাঙলার বিখ্যাত বিজ্ঞানী পি সি রায়কে বলা হতো বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী, বিজ্ঞানী মেঘনাদ সাহার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকরা। বাঙলার এসব বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছাত্র অবস্থায় জড়িয়ে পড়েছিলেন রাজনীতিতে। তবে বর্তমানে সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্র রাজনীতির সূতিকাগার হলেও বর্তমানে সেই ঐতিহ্যে ধূলা জমেছে। বিশেষ করে আগে থেকেই রাজনীতিতে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও বর্তমানে রাজনীতিতে তাদের সক্রিয়তা নেই বললেই চলে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনগুলোর শীর্ষস্থানীয় পদে গত দুই দশকে বিজ্ঞান অনুষদের কোনো শিক্ষার্থীকেই দেখা যায়নি। বিগত ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সাল অবধি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাহাদুর বেপারী ও অজয় কর খোকন। এছাড়া বিগত ২০০২ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন লিয়াকত সিকদার ও নজরুল ইসলাম বাবু। এরপর ২০০৬ থেকে ২০১১ পর্যন্ত মাহমুদ হাসান রিপন ও মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, ২০১১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ ও সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ২০১৫ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সাইফুর রহমান সোহাগ ও এসএম জাকির হোসাইন, ২০১৮ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ থেকে বর্তমান পর্যন্ত সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আল-নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য। এদের মধ্যে কেউই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন না।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২০০০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন নাসির উদ্দিন পিন্টু ও সাহাবুদ্দিন লাল্টু। এছাড়াও ২০০৩ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত সাহাবুদ্দিন লাল্টু ও আজীজুল বারী হেলাল, ২০০৫ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত আজীজুল বারী হেলাল ও শফিউল বারী বাবু, ২০০৯ থেকে ১২ পর্যন্ত সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ও আমিরুল ইসলাম খান আলীম, ২০১২ থেকে ১৫ পর্যন্ত আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল ও হাবিবুর রশিদ (হাবিব), ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত সভাপতি ছিলেন রাজীব আহসান, সর্বশেষ ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ফজলুর রহমান ও ইকবাল হোসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চেয়ারে আছেন। তবে চলতি বছরের গত ১৭ এপ্রিল থেকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বে রয়েছেন কাজী রওনকুল ইসলাম ও সাইফ মাহমুদ। এদের কেউই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন না।
তথ্যমতে, গত দুই দশকে দেশের সর্ববৃহৎ দুই ছাত্রসংগঠন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে কেউ বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থী ছিলেন না। তাদের কেউ কলা অনুষদের, কেউ আইন অনুষদের, কেউ আবার সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের, কেউ কেউ ব্যবসা অনুষদের। অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছাত্ররাজনীতিতে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তুলনামূলকভাবে বেশি। ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুজনেই ছিলেন আইন অনুষদের শিক্ষার্থী।
আর বর্তমান কমিটির সভাপতিও আইনের ছাত্র ও সাধারণ সম্পাদক সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ছাত্র। বর্তমান ঢাবির শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাদ্দাম হোসেন দুজনেই আইন অনুষদের ছাত্র। অন্যদিকে, ছাত্রদলের বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ দুজনই বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী। এদিকে, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্র সমাজসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ পদে দায়িত্বে থাকা কাউকে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে প্রমাণ মেলেনি।
বর্তমান ছাত্ররাজনীতিতে অতিদলীয়করণ, স্বার্থপরতা, ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, কাঁদা ছোঁড়াছুঁড়ি, বিশৃঙ্খা, সহিংসতাসহ অসংখ্য সীমাবদ্ধতার কারণে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বেশি সময় ও মনোযোগ দিতে হয়। নিত্যদিন ল্যাবরেটরি, অ্যাসাইনমেন্ট, থিসিসের কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। যে কারণে ছাত্ররাজনীতিতে সময় বা মনোযোগ দেয়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। বিপরীতদিকে, কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসা অনুষদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক অন্যান্য কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেয়ার সুযোগ পান। যে কারণে তারা রাজনীতি চর্চায় এগিয়ে আসতে পারেন।
অবশ্য বর্তমান গতিহারা রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের অন্ত নেই। জানতে চাইলে ঢাবির ফুটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আবু ফায়াদ দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বাঙালি মধ্যবিত্তদের অনেকে রাজনীতিটাকে ভালো চোখে দেখেন না। তারা মনে করেন রাজনীতিতে গেলে ক্যারিয়ার শেষ। আর কোনো শিক্ষার্থী যদি বিজ্ঞান বিভাগের হয় তাহলে তো পরিবারের সদস্যদের বেশিই প্রত্যাশা থাকে ছেলের চাকরির ক্ষেত্রে।
আবু ফাহাদ মনে করেন, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট অন্যান্য বিভাগের থেকে তুলনামূলক অনেক বেশি। সেজন্য তারা চাইলেও অন্য সবার মতো রাজনীতিতে সময় দিতে পারেন না। তবে যারা দেন তাদের বিশাল অংশ মূলত ক্যাম্পাসভিত্তিক রাজনীতি করেন বড় ভাইদের চাপে পড়ে। কখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট পেতে, সার্ভাইভ করতে এবং পড়ালেখা শেষে ভালো চাকরি পেতে। আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা কমই রাজনীতি করেন।
এছাড়াও রাজনৈতিক দাঙ্গা, আহত-নিহত হওয়ার ভয়ও রাজনীতি থেকে শিক্ষার্থীদের বিমুখ হওয়ার কারণ হতে পারে।
জানতে চাইলে ঢাবির ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম জাহিদ দৈনিক আনন্দবাজারকে জানান, ল্যাব, ক্লাসের প্রচুর চাপ থাকে। মানবিক অথবা ব্যবসা শাখার যেকোনো শিক্ষার্থীর চেয়ে আমাদের তিন-চার গুন বেশি সময় দিতে হয় ক্লাসে। তিনি আরও জানান, মানবিকের একজন শিক্ষার্থী একটা ক্লাস বাদ দিয়ে রাজনীতিতে সময় দেওয়ার পরও সে কিন্তু পরবর্তী ক্লাসে সেটা মানিয়ে নিতে পারে। তবে আমাদের (বিজ্ঞানের ছাত্র) জন্য এটা ব্যতিক্রম। আমাদের ক্লাসগুলোতে একটা ধারাবাহিকতা থাকে যেখানে একটা মিস করে আরেকটা কাভার করা কঠিন।
অবশ্য ছাত্ররাজনীতিতে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীর গুরুত্বের বিষয় উল্লেখ করে জাহিদুল বলেন, রাজনীতিতে কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। মূলত, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেধাভিত্তিক রাজনীতি করতে চায়। আর আমি মনে করি দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে দেশ গড়তে চান সেই স্বপ্ন পূরণ করতে বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীদের বেশি দরকার। এক্ষেত্রে ইকোনোমিক জোন, ডেলটা প্ল্যান, আধুনিক বাংলাদেশ- এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আমাদের বিজ্ঞানের ছাত্রদের বেশি দরকার। তাই বিজ্ঞানের ছাত্রদের মাঠের চেয়ে মেধাভিত্তিক রাজনীতিতে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
ঢাবির প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির দৈনিক আনন্দবাজারকে জানান, বর্তমান রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী রাজনীতি থেকে বিমুখ হচ্ছেন। একজন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হয়ে ঠিকমতো পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এখন সবচেয়ে কঠিন বলে মনে করছে তারা। এ জন্য বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা দিন দিন রাজনীতি বিমুখ হচ্ছে বলে মত দেন তিনি।
অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবির মনে করেন, আমাদের (বিজ্ঞানের) শিক্ষার্থীদের ল্যাব, অ্যাসাইনমেন্ট আর পরীক্ষার চাপ খুবই বেশি থাকে। দেখা যায় একজন শিক্ষার্থীকে কোনোদিন সারাদিনে ল্যাবে কাটাতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই একজন শিক্ষার্থীর পক্ষে রাজনীতিতে গিয়ে ভালো করার খুব একটা সুযোগ নেই। যদিও এর বাইরে দু’একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে।
বিজ্ঞানের ছাত্রদের রাজনীতিতে না আসার কারণ হিসেবে অনিশ্চয়তার বিষয়টিতে জোর দিয়ে বিজ্ঞানের এই শিক্ষক বলেন, এখানে (ছাত্ররাজনীতিতে) একটা অনিশ্চয়তা থেকেই যায়। যে কারণে আমি মনে করি এই অনিশ্চয়তার ফলে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা হয় ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. সাব্বির আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ছাত্ররাজনীতিতে বিজ্ঞানের ছাত্র খুবই কম সংখ্যক জড়িত। কলা বা সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে বেশি জড়িত থাকে। এটা ঐতিহ্যগতভাবে হয়ে আসছে। কারণ রাজনীতির সঙ্গে তাদের বিষয়গত দিক জড়িত। আরেকটা বিষয়, এসব বিষয়ে খুব বেশি চাপ থাকে না বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর মতো। তাছাড়া প্রতিটা সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতে কলা ও সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বেশি থাকায় ফলাফলটা সেদিকেই গড়ায়।
বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে না আসার কারণ বিষয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রফেসর ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, তবে এটাও ঠিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে নিয়ে আসা দরকার। তাদের সুযোগও দেওয়া দরকার। তার কারণ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা তুলনামূলক বেশি মেধাবী। তাদের মাঝে একটা সাইন্টিফিক আউটলুক থাকে। তারা রাজনীতিতে এলে সেই আউটলুকগুলো কাজে লাগবে।
ড. সাব্বির আহমেদ আরও বলেন, আমরা যদি এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে দেখি তাহলে দেখবো, যে পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, তারা খুবই বাস্তববাদী। এক্ষেত্রে আমাদের দেশে হুজুগে রাজনীতি চলমান। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে নিয়ে এলে রাজনীতির সংস্কৃতির পরিবর্তন আসবে। আমার মনে হয়, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে বেশি এলে সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরে আসবে।









