- প্রতিনিয়ম অসুস্থ শিক্ষার্থীরা
- প্রচণ্ড শব্দে অনুপস্থিত অনেকে
- শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত
- ইটভাটা বন্ধের দাবি শিক্ষার্থীদের
ইটভাটাটির কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে
: অধ্যক্ষ অধ্যক্ষ আবু সাঈদ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এক কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই স্থাপিত হয়েছে ইটভাটা। ইটভাটার বিষাক্ত কালোধোঁয়া ও ইটবহনকারী ট্রাক চলাচলের শব্দে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে প্রায়ই শিক্ষার্থীরা কলেজে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। পাশাপাশি বাড়ছে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি। এমন অভিযোগ মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের। টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার পলাশতলী এলাকায় ‘পলাশতলী মহাবিদ্যালয়’ ঘেঁষে ‘মিতালি ইটভাটা’ নামে ওই ভাটা স্থাপনের চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের পলাশতলী গ্রামে ২০০০ সালে ‘পলাশতলী মহাবিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। সেসময় ভালোভাবেই চলছিল শিক্ষাকার্যক্রম। তবে ২০১০ সালে মহাবিদ্যালয়টি ঘিরে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ‘মিতালি ইটভাটা’ নামে ওই ভাটাটি নির্মাণ করা হয়। চালুর পর থেকে ভাটার বিষাক্ত কালোধোঁয়া ও ভাটার ট্রাকসহ বিভিন্ন যন্ত্রের বিকট শব্দে ক্লাসে বসে থাকা যাচ্ছে না। এতে অনেক শিক্ষার্থী কলেজে উপস্থিত হচ্ছে না। আবার অনেকেই একদিন উপস্থিত হলে পরেরদিন আর তার খবর থাকে না। এমতাবস্থায় চরমভাবে শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ মুহূর্তে ভাটাটি বন্ধ করা না হলে ভবিষ্যতে মহাবিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ভাটাটি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন। একাদশ শ্রেণির প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার বলেন, ইটভাটার কালোধোঁয়া ও বিকটশব্দে ক্লাসে বসে থাকা যায় না। কালোধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টের সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষার্থীই প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছেন। আবার অনেক শিক্ষার্থী কলেজে আসা বাদ দিয়েছে। আমরা এ ভাটাটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী মুক্তি আক্তার, চাঁদনী আক্তার, কাকুলী, শান্তা আক্তারসহ অনেকেই বলেন, ‘ভাটার কালোধোঁয়া, ধূলাবালি ও ট্রাকসহ অন্যান্য যন্ত্রের বিকটশব্দে ক্লাস করা যায় না। ক্লাসে বসলে মাথা ব্যথা শুরু করে। আবার শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বলে। বিকট শব্দের কারণে স্যারদের কথাও শোনা যায় না। প্রতিনিয়ত অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমরা এ ইটভাটাটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।
মহাবিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ আবু সাঈদ বলেন, ইটভাটাটির কারণে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে এ অবৈধ ইটভাটা বন্ধের জন্য আবেদন করেছি, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে একসময় এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে এ মুহূর্তে ভাটাটি বন্ধ করা প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদফর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জেলায় মোট ২৮২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ১২৯টির পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন রয়েছে। বাকি ১৫৩টি ইটভাটার পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র নেই। কিন্তু যেগুলোর অনুমোদন বা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর ক্ষেত্রেই নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে পরিবেশবাদীদের।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, গতবছর অনেকগুলো ইটভাটাকে জরিমানা করেছি। এ বছরও আমাদের অভিযান চলবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা করা যাবে না। যে সব ইটভাটা বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে রয়েছে সেগুলোর ছাড়পত্র বাতিল করা হবে।
আনন্দবাজার/শহক









