প্রাক-শিক্ষাবাজেট আলোচনায় এমডব্লিউইআর---
- শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োগ করতে হবে বিশ্বমডেল
- স্বাস্থ্যখাতে শিক্ষকদের সার্বিক প্রণোদনা দিতে হবে
দক্ষিণ কোরিয়াতে শিক্ষাবাজেটের ৪ শতাংশ দেয়া হয় গবেষণার কাজে। ১৯৯০ সালে তাদের মাথাপিছু আয় ছিল ৫ হাজার মার্কিন ডলার আর গবেষণার কারণে বর্তমানে তা ৩০ হাজার ডলারে পরিণত হয়েছে। ভারতে যেখানে একজন অধ্যাপকের বেতন আড়াই লাখ রুপি সেখানে বাংলাদেশে মাত্র ১ লাখ ২০ হাজার। এই টাকায় সে সংসার চালাবে না পড়ালেখা করাবে সেই চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। ফলে ভালো শিক্ষার্থীগুলো দেশ ছেড়ে চলে যায়।
‘প্রাক-শিক্ষাবাজেট: উন্মুক্ত আলোচনা’ শীর্ষক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। বেসরকারি শিক্ষা ও গবেষণা সংগঠন মুভমেন্ট ফর ওয়ার্ল্ড এডুকেশন রাইটসের আয়োজনে গত শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ভার্চুয়ালি সভার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক এনায়েতুল্লাহ কৌশিক ও জীম মণ্ডলের সঞ্চালনায় ‘শিক্ষাবাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ।
প্রধান অতিথি ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, আশির দশকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ডা. মাহাথির মুহাম্মদের কার্যকরী নেতৃত্বে দেশটি উঠে দাঁড়িয়েছে। তারা আমাদের দেশে আসতো শিক্ষা নিতে এখন উল্টো তাদের দিকে আমাদের যেতে হচ্ছে। এটাকেই বলে নেতৃত্ব। সেখানে শিক্ষার গুণমত মান ও গবেষণা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের দেশে গবেষণায় বরাদ্দ অপ্রতুল ফলে ভালো কাজ করা সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, আমাদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় যেতে হবে। আন্তর্জাতিক আলোকে সমন্বয় করতে হবে। গতানুগতিক সাবজেক্ট খুললে চলবে না। শিক্ষকদের স্বাধীনতা না থাকলে কিভাবে সঠিক জাতি গঠন করা যাবে।
ড. নিজামুল হক ভূঁইয়া বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকেও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থায় আনতে হবে। কেননা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতোই শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবান্ধব। তার কাছে কথাগুলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা দেশের উন্নয়নে তিনি কাজ করছেন। তাকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, শিক্ষায় বাজেট বাড়াতে হবে। গবেষণায় বাজেট বাড়াতে হবে। দেশের কৃষিতে উন্নয়ন তো গবেষণার ফলেই হয়েছে। অতএব অর্থ লাগবে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে। তিনি স্বাধীন দেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তাদেরকে প্রথম শ্রেণিভুক্ত করেছিলেন। আর ইউরোপ-আমেরিকা কিন্তু কৃষি দিয়েই বিপ্লব শুরু করেছিল। পরবর্তীতে শিল্পবিপ্লবে যায়। ড. নিজামুল হক দেশের সব পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে শিক্ষা বিষয়ে কথা বলতে ও পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানান।
মূলপ্রবন্ধে সংগঠনের আহ্বায়ক ফারুক আহমাদ আরিফ শিক্ষা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, ক্যাডেট, ধর্মীয়সহ (মাদরাসা, টোল তথা- মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসব) সবশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যশিক্ষাখাতে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন। তারমধ্যে উন্নয়ন ব্যয় ২ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ও পরিচালনে ১ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ জাতীয় বাজেটের ২৮ শতাংশ (শিক্ষায় ২৩ ও স্বাস্থ্যে ৫ শতাংশ)। জাতীয় আয়ের (জিডিপি) হিসেবে তা ৯ শতাংশ। কেননা যেকোনও দেশের শিক্ষাবাজেট সেই দেশের মোট বাজেটের ন্যূনতম ১৫-২০ শতাংশ বা জাতীয় আয়ের ৪-৬ শতাংশ হওয়া প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যখাতের জন্য মোট ১ লাখ কোটি টাকা। তাতে উন্নয়ন ৬০ হাজার কোটি ও পরিচালন ব্যয় ৪০ হাজার কোটি টাকা। তার সঙ্গে জাতীয় বাজেটে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৫ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন, যা আমাদের আগামী জাতীয় স্বপ্নবাজেটে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কেননা অশিক্ষিত, অসুস্থ ও বেকার জনশক্তি দিয়ে রাষ্ট্রের উন্নয়ন অসম্ভব। তিনি আয়ের উৎস সম্পর্কে বলেন, এই বাজেটে সরকার দেবে ২ লাখ ৮১ হাজার ১০০ কোটি টাকা ও বেসকারি উদ্যোগে আসবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
বাজেট বণ্টনের বিষয়ে ফারুক বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ও মাদরাসা, কারিগরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ও উচ্চশিক্ষায় ১ লাখ ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও ৬১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা নবম হতে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য বরাদ্দ থাকবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দিয়ে বাংলাদেশ শিক্ষা ব্যাংক ও বাংলাদেশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাংক নামে পৃথক দুটি ব্যাংক সরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শিক্ষাসংক্রান্ত সব লেনদেন ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সব লেনদেন ব্যাংক দুটি থেকে হবে। প্রথম শ্রেণি হতে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রতি ব্যয়টি জনপ্রতি হিসেব রাখা হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষাজীবনব্যাপী একটি মাত্র ব্যাংক একাউন্টেই যাবতীয় হিসেব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সভাপ্রধানের বক্তব্যে সজীব সরকার বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নত করতে হলে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করতে হবে শিক্ষাখাতে। এক্ষেত্রে বাজেটের বরাদ্দ বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেটির বাস্তবায়ন সঠিক ও স্বচ্ছ হচ্ছে কিনা তা তদারকি করতে হবে। তিনি কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। ১. আগামীর জনশুমারিতে উপকূল, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তৃতীয় লিঙ্গসহ অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিষয়টি থাকতে হবে। তাদের জন্য বাজেট থাকতে হবে। ২. শিক্ষাখাতে নারী-পুরুষ এখনো বৈষম্যবিদ্যমান। এক্ষেত্রে নারীদের বৈষম্য কমাতে হবে। ৩. ঝরে পড়া শিশুদের আবার শিক্ষায় ফিরিয়ে আনতে বরাদ্দ থাকতে হবে। ৪. শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হবে। কেননা অল্প টাকায় ভালো মানের শিক্ষক পাওয়া যাবে না। এতে করে ভালো শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অন্যদিকে অর্থ আয় করে। ফলে দুটি ক্ষতি হচ্ছে।
অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব (স্বপ্নীল) বলেন, দেশে স্বাস্থ্যশিক্ষায় ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপনসহ বিভিন্ন ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি মিলে একশর বেশি মেডিকেল, নার্স ইনস্টিটিউট ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। তবে এখাতে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদা মাফিক শিক্ষক পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও স্বাস্থ্যখাত সম্প্রসারণ করাটা ভালো দিক। কেননা কবে এতো সংখ্যক শিক্ষক তৈরি হবে তখন তা সম্প্রসারণ হবে তা তো হয় না। বিশেষ করে বেসিক সাইন্স, অ্যানাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষক হতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শিক্ষকদের উৎসাহিত করতে শুধু আর্থিক নয় বরং অন্যান্যখাতে প্রণোদনা দিতে হবে। যদিও প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে গবেষণায় ব্যাপক জোর দিচ্ছেন। বাজেট দিচ্ছেন। তবে বাজেট পর্যাপ্ত নয়। যেমন বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পরিমাণ অর্থ আছে তা দিয়ে হয়তো ১৫ জনের বালো গবেষণা হবে। তবে এটি যদি শতাধিক লোককে দেয়া হয় তবে কেমন করে ভালো গবেষণা হবে? গবেষণায় বাজেট বাড়াতেই হবে। ডা. স্বপ্নীল স্বাস্থ্যখাতের বাজেট নিয়ে বলেন, কোভিড-১৯ আমাদের যে বিষয়টি শিখিয়েছে তা হচ্ছে টিকায় গবেষণা বাড়ানো। এখাতে আমাদের কাজ করতে হবে। তিনি প্রেক্টিসে যুক্তের পাশাপাশি যারা গবেষণায় থাকবে তাদের সার্বিক উন্নয়নে পদন্নতির দিতে হবে বলে মত দেন।
সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অ্যান্ড চেয়ারপারসন সজীব সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান ও সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব, অধ্যাপক ডা. মামুন-আল-মাহতাব (স্বপ্নীল)। আলোচকদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপনের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও অফিসার্স পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান (আলমগীর), বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণ মঞ্চের সভাপতি আফজালুর রশিদ, দৈনিক আনন্দবাজারের বার্তা সম্পাদক নিয়ন মতিয়ুল, মালয়েশিয়ান ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট ওয়াহিদ সোহান, সুন্দরবন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রঞ্জিত বর্মন, সাংবাদিক ও অভিবাসী বিশেষজ্ঞ এএসএম সুজাউদ্দীন, জাতীয় পাঠাগার আন্দোলনের সভাপতি ইঞ্জি. আরিফ চৌধুরী শুভ, আঁচল ফাউন্ডেশনের লিডার অব রিসার্চ অ্যান্ড এনালাইসিস ইউনিটের সদস্য সাজিয়া ইফ্ফাত।
মাহবুবুর রহমান আলমগীর বলেন, স্বাধীন হওয়ার পূর্বে যখন বাংলাদেশ পূর্ব পাকিস্তান ছিল তখন পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক বৈষম্যমূলক আচরণের জন্য বৈষম্য দূরীকরণার্থে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। কিন্তু এখনও বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরে বিভিন্ন বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। বিসিএস এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং বিসিএস ব্যতীত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে বেতনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও পার্থক্য রয়েছে। সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে সচিবালয়ে একজন কর্মকর্তা টেলিফোন ও ইন্টারনেট ভাতা, গাড়ি ক্রয়ের জন্য ডেপুটি সেক্রেটারি বা তদুর্ধ্ব গ্রেডের একজন কর্মকর্তা বিনা সুদে ৩০ (ত্রিশ) লক্ষ্য টাকা এবং তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের কোনো সুবিধা পায় না যদিও সব চাকরিজীবী একই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী।
মাহবুবুর রহমান আরো বলেন, আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, একই পদের একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে গ্রেড-এ বেতন পায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন গ্রেড-এ বেতন পান। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। সরকারি এবং স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে একই সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে কর্মচারীদের জীবন মানের দিকে লক্ষ্য রেখে বেতন স্কেলের ২০টি ধাপের পরিবর্তে ১৫টি ধাপ করা যেতে।
রঞ্জিত বর্মন ৮ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে বলেন- ১. উপকূলীয় মন্ত্রণালয় গঠন বা উপকূলীয় বোর্ড গঠন করা। ২. উপকূলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ছোট একটি অংশের শিশুরা পরিবারের আর্থিক দুরবস্থা হেতু জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে বিভিন্ন সময়ে নদীতে পোনা ধরে আয়ের উৎস হিসাবে। উপকূলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে শিশুদের উপবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি করা, স্কুলে দুপুরে সরকারিভাবে খাদ্যের ব্যবস্থা করা। ৩. উপকূলের গুরুত্বপূর্ণস্থানে নদীতীরবর্তী এলাকায় দশবেড বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ করা এবং এ জন্য স্বাস্থ্যখাতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্ধ রাখা। বিশেষ করে সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় বন্য প্রাণী দ্বারা আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসার জন্য ভাসমান হাসপাতাল বা স্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণে বরাদ্ধ রাখা।
আলোচনায় নিয়ন মতিয়ুল বলেন, বৈশ্বিক জ্ঞান বিস্ফোরণের সঙ্গে আমাদের প্রজন্মকে পরিচয় করাতে, সেই সঙ্গে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে বিজ্ঞান শিক্ষায় কতটা মনোযোগ দিতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের দেশে শিক্ষা কিংবা বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব যত বাড়ছে দিন দিন বরাদ্দও কমে আসছে। সারাবিশ্বে শিক্ষা বাজেট বাড়ে, আমাদের দেশে কমে। এর পেছনে একমাত্র কারণ আমরা শিক্ষাখাতে ব্যয়কে বিনিয়োগ বলি না। তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে ঢেলে সাজানোসহ ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন। ১. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মেলাতে বাজেটে শিক্ষাকে চতুর্থ নয়, এক নম্বর অবস্থানে আনতে হবে। ২. শিক্ষাখাতের বরাদ্দকে ব্যয় হিসেবে নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। ৩. গবেষণা বা বিজ্ঞানাগারের পরিধি বাড়াতে হবে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করতে হবে। ৪. ঝকমকে অবকাঠামোর চেয়ে জরুরি দক্ষ, যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষক প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বিবেচনায় অদক্ষদের বদলে মেধাবীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। ৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ জ্ঞানচর্চার উপযোগী করতে হবে। এজন্য অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রতিটি ক্যাম্পাসে সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, বিদেশি বিজ্ঞান জার্নাল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. বড় দায়িত্ব নিতে হবে রাজনীতিকদের। জনসাধারণের কাছে তারা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরবেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চার উপযুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে প্রস্তুত করতে সহযোগিতা করবেন। শিক্ষকদের সময় উপযোগী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
ওয়াহিদ সোহান বলেন, মালয়েশিয়ায় শিক্ষক ও অন্যান্যখাতে বেতন কাঠামো প্রায় সমান। ফলে শিক্ষকরা সঠিকভাবে পাঠদানে মনযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশেও তা করা যায়। কেননা দেশটি টেকনিকেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্ধ দিচ্ছে। শিক্ষকদের সামাজিকস্তর ঠিক রাখতে পদন্নতি, গ্রেড, বেতনকাঠাসোসহ সবকিছু সমান রেখেছে। তা ছাড়া বাজেটের বিশাল অংশ গবেষণায় ব্যয় করা হচ্ছে।
আফজালুর রশিদ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও ড. মুহা. কুদরাত-এ-খুদার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হতে দেখলাম না। অথচ সেসবের ৯০ শতাংশ এখনো কার্যকর করা দরকার। তিনি শিক্ষক নিয়োগে কমিশন গঠনের প্রস্তাব রাখেন।









