দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহার শাহাদাৎ বার্ষিকীর দিনটিকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুর ১২টায় শহীদ জোহা চত্বরের পাশে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি একডুকেশন ক্লাবের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণরত শিক্ষার্থীরা বলেন, জোহা স্যার শিক্ষার্থীদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। জোহা স্যার মানে আদর্শ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। তিনি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু পরিতাপের বিষয় তাঁর আত্মত্যাগের কতটা মূল্য আমরা কতটুকু দিতে পেরেছি? তাঁর এই আত্মত্যাগ এখনো জাতীয়ভাবে মূল্যায়িত হয়নি।
এসময় তারা আরো বলেন, বর্তমানে শিক্ষকদের মধ্যে জোহা স্যারের সে আদর্শ দেখা যায় না। তাদের নিেেজর মধ্যেই বিভাজন সৃষ্টি করছে। পদ-পদবীর জন্য রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত তারা। শিক্ষার চেয়ে রাজনীতির সুবিধা এখন তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসূচি থেকে শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য করার অনুরোধ জানান।
রাবি একডুকেশন ক্লাবের সদস্য রেজওয়ানুল আলম রিজভীর সঞ্চালনায় সংগঠনের সদস্য শামস আল গালিব, ফুয়াদ পাবলো, শাহিনুর খালিদ, শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকী বক্তব্য দেন। মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন, রাকসু আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ অন্তর, রাবি শাখা বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি রনজু হাসান, ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মহাব্বত হোসেন মিলন প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গেলে পাকিস্তানি হানাদাররা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেন শহীদ ড. শামসুজ্জোহাকে। এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দিনটিকে জোহা দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন।
আনন্দবাজার/শাহী








