- সদ্যবিদীয় অর্থবছরে ভাটা
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় নাকাল ছিলো ২০২০-২০২১ অর্থবছর। অনেকটাই বন্ধ ছিলো আমদানি-রপ্তানি। থমকে গিয়েছিলো অর্থনীতি। তবে তখন চাঙা ছিলো রেমিট্যান্সখাত। রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়েছিলো রেমিট্যান্স প্রবাহ। তবে করোনা সংক্রমণ কমতে শুরু করার পর থেকে কমতে শুরু করে রেমিট্যান্স। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের শুরু থেকেই কমতে শুরু করে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির গতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রাবসীরা। তবে সদ্যবিদায়ী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে (জুলাই-জুন) রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ডলার। যা গত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জুন মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৮৪ কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে (প্রতি ডলার ৯৩ দশমিক ৪৫ টাকা ধরে) যা ১৭ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বেশি। সদ্যবিদায়ী (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্স আসে ১৮৭ কোটি ডলার, আগস্টে ১৮১ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ডলার, অক্টোবরে ১৬৪ কোটি ডলার, নভেম্বরে ১৫৩ কোটি ডলার, ডিসেম্বরে ১৬৩ কোটি ডলার, জানুয়ারিতে ১৭০ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১৪৯ কোটি ডলার, মার্চে ১৮৬ কোটি ডলার, এপ্রিলে ২০১ কোটি ডলার এবং মে মাসে ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। ২০২১-২২ অর্থবছরের একক মাস হিসেবে সবচেয়ে বেশি ২০১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স আসে এপ্রিলে। আর সবচেয়ে কম ১৪৯ কোটি ডলার এসেছিল ফেব্রুয়ারিতে।
২০২১-২০২২ অর্থবছরের সবশেষ মাস জুনে ১৮৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে। এ ব্যাংকটির মাধ্যমে জুন মাসে রেমিট্যান্স আসে ৩২ হাজার ২০৫ মিলিয়ন ডলার আর ২০২১-২২ অর্থবছরে আসে ৪ হাজার ৯২০ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার। এর পরেই রয়েছে বেসরকারি ডাচ বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটির মাধ্যমে পুরো অর্থবছরের আসে ২ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন ডলার। সদ্যবিদায়ী জুন মাসে আসে ১৮৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক এবং বেসরকারি সাউথইস্ট ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক এবং এনসিসি ব্যাংক।









