বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সুখবর দিচ্ছে মালয়েশিয়া। শ্রম ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বিওইএসএল) মাধ্যমে শিগগিরই ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটি। ২৫টি বেসরকারি বাংলাদেশি এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পর্যাপ্ত কর্মী না পাওয়ায় নতুন এককালীন এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত শুক্রবার মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের (এমইএফ) এক চিঠিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট (জিটুজি) সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য এককালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাস্টমার মিট ডে সংবাদ সম্মেলনে মানবসম্পদ মন্ত্রী এম সারাভানান বলেন, সমস্যা হলো নিয়োগকর্তারা ভাষা, ধর্ম ইত্যাদির কারণে শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়ান এবং বাংলাদেশিদের নিয়োগ করতে পছন্দ করেন।
এর আগে মালয়েশিয়া মাত্র ২৫টি বাংলাদেশি সংস্থাকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের অনুমতি দেয়। তারা একটি সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিত। তবে এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ কর্মরতরা বলছেন, আরও ২৫টি সংস্থার কর্মী পাঠানোর অনুমতি লাভের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলেছেন মাত্র ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেশন বাংলাদেশি শ্রমিকদের ধীরগতির নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রধান কারণ। তারা দুর্বল পারফরম্যান্সের এই সিন্ডিকেশনে জড়িত থাকায় মালয়েশিয়ান মন্ত্রীকেও দায়ী করেন।
বিওইএসএলের মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক কর্মসংস্থান) বনানী বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষ কর্মী নিয়োগের জন্য আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। চাহিদা জানিয়ে দেওয়া চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা শ্রমিক পাঠানো শুরু করব। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা)-র মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, আমরা গত ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ার সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছি। এরপর থেকে মাত্র ১,২০০ জন মালয়েশিয়ায় গেছেন।
শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, ২৫টি সংস্থা যারা কাজ করছে তারা তাদের সর্বোচ্চটা দিচ্ছে না। বেশিরভাগের ব্যবসায়িক প্রোফাইল ঘাটলে দেখা যাবে গত ৫-১০ বছরে তারা কখনও বড় সংখ্যক কর্মী পাঠায়নি। এর অর্থ অভিজ্ঞতার দিক থেকে তাদের বড় ঘাটতি রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, লাভজনক সিন্ডিকেট নিয়ে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় শ্রমিক সংকটসহ শিল্পগুলো ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন। যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা ইউ-টার্ন হবে।
সূত্রমতে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে স্বাক্ষরিত এমওইউ অনুযায়ী, পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ মানুষ মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাবে। চুক্তিটি বৃক্ষরোপণ, কৃষি, উত্পাদন, পরিষেবা, খনি, নির্মাণ এবং গৃহস্থালী পরিষেবাসহ সকল খাতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সূচনা করে। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে এক বছরে দুই লাখ কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে বলে জানানো হয়েছিল। যাদের ন্যূনতম বেতন প্রতি মাসে ১,৫০০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং অভিবাসন ব্যয় হবে ৭৯,০০০ টাকা।
সূত্রমতে, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ের অভিযোগে মালয়েশিয়া ২০১৮ সাল থেকে তিন বছরের জন্য বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০ লাখের বেশি অভিবাসী কর্মী নিজ দেশে ফিরে আসায় মালয়েশিয়ায় শ্রম ঘাটতি দেখা দেয়।









