প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের সিংহভাগ আসে এসব দেশ থেকে। চলতি অর্থবছরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসী আয়ের গতি কমে গেলেও অন্যান্য পশ্চিমা দেশে থেকে বেড়েছে।
করোনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বিশ্বব্যাপী কর্মী ছাঁটাই হওয়ার কারণে গেল ছয় মাস যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইতোবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করলেও মধ্যপ্রাচ্যে গতি আসেনি। এতে গেল কয়েক মাসে স্বাভাবিক সময়ের মতো যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগ চললেও মধ্যপ্রাচ্যে তা শুরু হয়নি। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পর্যায়ক্রমে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে গেলেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেড়ে গেছে।
এক হিসাবে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৭০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে এসেছে ৩৮৪ কোটি ডলার। অথচ একই সময়ে আমেরিকা ইউরোপসহ অন্যান্য দেশ থেকে এসেছে ৩২২ কোটি ডলার। তুলনামূলক বিচারে যা অনেক বেশি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে এক কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বাংলাদেশে রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য, আমেরিকা ও ইউরোপে থাকা প্রবাসীরা। গত জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে প্রবাসী আয় আগের চেয়ে কমে গেছে। অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে রেমিট্যান্স এসেছে ১০৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার, আগস্টে ১০১ কোটি ২২ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ৯১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং সর্বশেষ অক্টোবরে এসেছে ৮৬ কোটি ২১ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক এক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা যায়, রেমিট্যান্সের সিংহভাগ আসছে শীর্ষ ১০ দেশ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ওমান, ইতালি ও বাহরাইন। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি আছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। বর্তমানে ২২ লাখের মতো প্রবাসী সেখানে কর্মরত আছেন।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত চার মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সৌদি আরব থেকে। এর পরিমাণ ১৭০ কোটি ডলার। যা মোট রেমিট্যান্সের ২৪ শতাংশ। তবে বর্তমানে এই প্রবাহ কমেছে। সৌদি থেকে জুলাইয়ে এসেছে ৪৬ কোটি ডলার, আগস্টে ৪৩ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে ৪০ কোটি ডলার এবং সর্বশেষ অক্টোবরে ৩৯ কোটি ডলার এসেছে। আগে রেমিট্যান্স পাঠানোর দিক থেকে সৌদি আরবের পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) বড় উৎস ছিল। তবে করোনা মহামারির মধ্যে আমিরাতকে টপকে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
আনন্দবাজার/শহক









