রোববার (২১ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দক্ষিণ কোরিয়ার ভাষা পরীক্ষায় পাস করা ‘এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেম’ (ইপিএস) কর্মীরা মানববন্ধন করে ভিসা ইস্যুর বিষয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার মধ্যে থাকা প্রায় ২১ হাজার কর্মীর স্বার্থে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন ইপিএস কর্মী এইচ এ আরিয়ান, সোহেল, খায়রুল কবির, সাদেকুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম শান্ত প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করেন, এক যুগ ধরে বাংলাদেশে চলমান ইপিএস সিস্টেম কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। বোয়েসেলের অপেশাদারিত্ব, অনিয়মতান্ত্রিক রোস্টার ব্যবস্থা এবং গবেষণাহীন কার্যক্রমের কারণে রোস্টারভুক্ত কর্মীদের স্বপ্ন এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। রোস্টার থাকা সত্ত্বেও বিদেশ যাত্রা নিশ্চিত না হওয়ায় অনেক কর্মী হতাশার মুখে পড়ছেন।
মানববন্ধনে বলা হয়, দেশের স্বার্থের প্রতি উদাসীনতার কারণে অনেক প্রতিভাবান কর্মী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বক্তারা সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ইপিএস সিস্টেম সংস্কারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে উপস্থাপিত প্রধান দাবি: ২০২২ সাল থেকে ডিলেট হওয়া বা হওয়ার সম্ভাব্য কর্মীদের পুনঃরোস্টার করা। ২০২৩ সালের রোস্টারভুক্তদের ডিলিট না করার নিশ্চয়তা দেওয়া।
দুই বছরের ১০টি ইস্যুতে ৭-৮ বার কোম্পানির মালিকের কাছে ফাইল বাধ্যতামূলক পৌঁছে দেওয়া। বর্তমান রোস্টারকৃত কর্মীদের মধ্যে ৭৫-৮৫ শতাংশ কোরিয়ায় না পৌঁছানো পর্যন্ত সকল সার্কুলার বাণিজ্য বন্ধ রাখা।
কোরিয়ার বাণিজ্যিক জোনে ৪-৫ জন এজেন্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা। ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেন মুক্ত বাংলাদেশ ইপিএস ঘোষণা এবং লেনদেনের প্রমাণে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। নতুন খাত/সেক্টর সৃষ্টি করে রোস্টারভুক্তদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ কর্মী তৈরি এবং কোরিয়ায় যাত্রা নিশ্চিত করা।
মৎস্য, কনস্ট্রাকশন, শিপ বিল্ডিং খাতের ভিসা ইস্যু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা; অন্য অঞ্চল থেকে রোস্টারবিহীন কর্মী না নেওয়ার নিশ্চয়তা। কোরিয়ায় প্রবাসী কর্মীর কোম্পানি পরিবর্তন বা রিলিজের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের এজেন্ট সরাসরি খোঁজ নেওয়া।
মানববন্ধন শেষে ইপিএস কর্মীরা সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান।









