নানান ধরনের উৎসবে মেহেদিতে হাত রাঙানো বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্য এখন দক্ষিণ কোরিয়াতেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ২২-২৩ অক্টোবর দেশটির রাজধানী সিউল মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট আয়োজিত ‘সিউল ফ্রেন্ডশিপ ফেস্টিভ্যালে’ এ চিত্র দেখা যায়।

মেলায় বাংলাদেশ দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের ৪৭টি দূতাবাস অংশগ্রহণ করে। সেখানে ছিল বাংলাদেশের তিনটি স্টল। এসব স্টলে মেহেদীতে হাত রাঙানোর ব্যবস্থা করা হয় যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। আর খাদ্য স্টলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। মেলায় আগত কোরিয়ান ও বিদেশী দর্শণার্থীগণ বাংলাদেশী খাবারের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
শনিবার (২২ অক্টোবর) সকালে সিউল সিটির ভাইস-মেয়র কিম উইসং কোরিয়ান অতিথিবৃন্দ ও মেলায় অংশগ্রহণকারী দেশ সমূহের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দের উপস্থিতিতে মেলার উদ্বোধন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের জন্য নির্ধারিত তিনটি স্টলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, খাবার ও পোশাকপ্রদর্শন করা হয়। মেলায় হস্তশিল্প স্টলে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে মিল রেখে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও অন্যান্য পণ্যসামগ্রী প্রদর্শন করা হয়। স্টলে মেহেদীতে হাত রাঙানোর ব্যবস্থা করা হয় যা দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। খাদ্য স্টলে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু খাবার প্রদর্শন ও পরিবেশন করা হয়। মেলায় আগত কোরিয়ান ও বিদেশী দর্শণার্থীগণ বাংলাদেশী খাবারের প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। মেলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে বাংলাদেশের শিল্পীদের ঐতিহ্যবাহী গান ও নৃত্য উপস্থিত দর্শকদের নিকট বেশ সমাদৃত হয়। ‘ওয়ার্ল্ড কস্টিউম ডিসপ্লে’ বুথে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকসমূহ প্রদর্শন করা হয়।
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কোরিয়ান ও বিদেশী নাগরিকদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ‘সিউল ফ্রেন্ডশিপ ফেস্টিভ্যাল-২০২২’কে এক অনন্য সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেছে দূতাবাস। উৎসবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সফল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও বৃদ্ধি ও সুদৃঢ় আশা করা যায়।
আনন্দবাজার/কআ








