দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের পঞ্চম অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেছেন, সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রথমে জাতীয় মহাসড়ক, পরে আঞ্চলিক এবং জেলা সড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, দেশে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, যা কমাতে নজরদারি বৃদ্ধি জরুরি। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে এবং আইন লঙ্ঘনের ঘটনাও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডিসিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা ও কার্যকারিতার ওপরই অনেকাংশে প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে।
এ কারণে কেন্দ্র ও মাঠ প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ (ল্যান্ড অ্যাকুইজিশন) একটি বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় মাত্র ২০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন ছিল, যা দুই মাসে ৪৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী বলেছেন, অনেক স্থানে রাস্তার দুই পাশে দখল, সড়কের ওপর বাজার বসানো, অবৈধ বিলবোর্ড এবং অতিরিক্ত ওজন বহনকারী যানবাহনের কারণে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার নির্মাণ সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, প্রয়োজনীয়তা ও মান বজায় রেখে এসব নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি নদী ও সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখার দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে।
মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০১৫ সাল থেকে এটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বিভিন্ন সংযোগ সড়কের কারণে এটি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হলেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রেলপথে দুর্ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রেলওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও তৎপর করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে যানজট নিরসনে নেওয়া পরিকল্পনার বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত ঈদে বেশিরভাগ মহাসড়কে যানজট সহনীয় পর্যায়ে ছিল। তবে চন্দ্রা ও যমুনা সেতু এলাকায় চাপ ছিল। এসব স্থানে দখলমুক্ত করা, সড়ক প্রশস্তকরণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানিয়েছেন, গতবার ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর করা যায়নি। এবার বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। তবে কোরবানির পশু পরিবহনের কারণে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।









