সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে এই পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপেই কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করতে সম্প্রতি ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি পে-স্কেল সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এর আগে গঠিত ২১ সদস্যের কমিশন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। নতুন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আগামী বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
শুরুতে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে এই বেতন কাঠামো চালুর সুপারিশ করা হলেও বিভিন্ন বাস্তবতায় তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকার নতুন অর্থবছরের প্রথম দিনকে সামনে রেখে পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে চলতি বাজেটেও এ বিষয়ে প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, দ্রুত পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠেও সক্রিয় হয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আগামী ১৬ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৃহৎ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক জানিয়েছেন, দ্রুত চূড়ান্ত ঘোষণা আদায়ে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে।
সব মিলিয়ে, নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের পথে বড় অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের লাখো সরকারি চাকরিজীবী।









